ইয়ানূর রহমান : যশোরে কঠোর লকডাউন শুরু হচ্ছে ১জলাই ভোর থেকে। কাঁচাবাজার খোলা রাখা যাবে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত। সকল এছাড়া হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে। কাল থেকে কঠোর বিধি নিষেধ বাস্তবায়নের কর্মকৌশল গ্রহনে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
যদিও বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিলো সেখানে বাজার ৫টা ও হোটেল রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান।
তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে সেখানে পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসনকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যেহেতু যশোরের অবস্থা ভয়াভয় সে বিষয়টি বিবেচনা করে এ স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রশাসনের উর্দ্বোতণ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।
অন্য যে সকল স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেগুলো হলো, সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে। বিধি-নিষেধ চলাকালীন যশোর জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে এবং আন্তজেলা বাস, ট্রেন ও সকল প্রকার গণপরিবহণসহ সিএনজি, রিক্সা, ভ্যান, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, থ্রিহুইলার, হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে রোগী পরিবহনকারী/এ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক এবং জরুরি সেবা দানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
কাচাবাজারের সাথে ফুল ও নিত্য প্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকানও দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা ধাকবে।
এছাড়া সকল ধরণের দোকানপাট, শপিংমল, হোটেল, রেস্তোরা, চায়ের দোকান, বিপণীবিতান বন্ধ থাকবে।
ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রাখা যাবে। আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য, দুগ্ধ পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বেনাপোল স্থলবন্দরে জরুরি আমদানি-রপ্তানি, নওয়াপাড়া বন্দরের সার সরবরাহসহ অন্যান্য কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি, বেসরকারি) গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংকসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, স্থানীয় সরকারের অধীন অফিসসমূহ, সরকারি অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারি ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভুত থাকবে। অন্য সবাইকে অবশ্যই ঘরে অবস্হান করতে হবে।
অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিল্প-কলকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এমন ধরণের সামাজিক (বিবাহ, জন্মদিন, পিকনিক, হালখাতা, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ওয়াক্তের নামাজ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ৫ জন ও জুম্মার নামাজ সর্বোচ্চ ২০ জন জামাতে আদায় করবেন। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এর বেশি জমায়েত হওয়া যাবেনা।
সকল জরুরি নির্মাণ কাজ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলমান থাকবে এবং এ সংক্রান্ত পণ্য পরিবহন বিধি নিষেধের আওতাবহির্ভুত হবে। জেলার সকল পশুর হাট বন্ধ থাকবে।
এছাড়া সকাল নয়টা থেকে যশোরে যৌথ অভিযান শুরু হবে। অভিযানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, ও র্যাব সদস্যরা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.