মুঠোফোন গ্রাহকের অজান্তে ব্যালেন্স থেকে টাকা কাটার অভিযোগ

তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে বিটিআরসি

ওয়ান নিউজঃ মুঠোফোন গ্রাহকের অজান্তে অপ্রয়োজনীয় সেবা চালু করে টাকা কেটে নিচ্ছে টেলিকমিউনিকেশন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (টিভ্যাস) সেবা দেওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আরও নানা অনিয়ম করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। বহুবার এ ধরনের অভিযোগ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এলেও তা প্রমাণ হচ্ছিলো না। অবশেষে বিটিআরসি অভিযোগগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) টিভ্যাসের একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের তথ্য পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে বিটিআরসি।

অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পরপরই মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের গ্রাহকদের দেওয়া ভাস সেবা বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। অপারেটরগুলোর কাছে নির্দেশনার চিঠি পৌঁছে ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায়। নির্দেশনা পেয়েই অপারেটর দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। পরে অবশ্য অপারেটর দুটির সেবা বন্ধ করতে হয়নি।

১০০ জন গ্রাহককে ফোন করেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের কর্মকর্তারা। ৪৬ জন গ্রাহক জানিয়েছেন, টিভ্যাস সেবা চালুর আগে তাঁদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। কেবল ১৭ জন জানান, তাঁদের সম্মতি নিয়ে সেবাটি চালু করা হয়েছে। আর ২৬ জন ফোন ধরেননি এবং ১১ জনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবি থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এ বিষয়ে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করছি। শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

অন্যদিকে বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে বিটিআরসি’র সঙ্গে ইতোমধ্যে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আমাদের মতামত তাদের কাছে আমরা তুলে ধরেছি। বর্তমানে বিটিআরসি’র দেওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজও চালিয়ে যাচ্ছি। একটি গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা সবসময় বাংলালিংক ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে চেষ্টা করে থাকি।

প্রসঙ্গত, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে (টি-ভাস প্রতিষ্ঠান) ওয়েলকাম টিউন, রিং টোন, নিউজ অ্যালার্ট সার্ভিস, খেলার খবর, গান, ধর্মীয় তথ্য ইত্যাদির সেবা দিয়ে থাকে। এগুলোকে বলা হয় ভাস সেবা।

বিটিআরসি এর পরিদর্শনে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিবন্ধিত ঠিকানায় অফিস না থাকা, কমিশন থেকে সার্ভিস এবং ট্যারিফ অ্যাপ্রুভাল ছাড়াই টিভ্যাস সেবা দেওয়া। টিভ্যাস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মনিটরিং টার্মিনাল/অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা। ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং অ্যাগ্রিমেন্ট ছাড়া সার্ভার স্থাপন করে সেবা দেওয়া, অডিট রিপোর্ট দিতে না পারা, টিভ্যাস সার্ভিস অ্যাক্টিভেশনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দেশনা মোতাবেক ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বাস্তবায়ন না করা।

বিটিআরসি জানায়, এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কমিশন থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়।

এরকম পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান থাকবে। ইতোমধ্যে উইন মিয়াকি লি. মিয়াকি মিডিয়া লি. ও বিনবিট মোবাইল এন্টারটেইনমেন্ট লি. নামক তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০১০ সালের দিকে স্বল্প পরিসরে টিভ্যাস সেবা দেয়া শুরু হয়। ২০১৮ সাল নাগাদ এর ব্যবহার ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ায় বিটিআরসি হতে টিভ্যাস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার লক্ষ্যে গাইডলাইন চালু করা হয়। সে সময় থেকে টিভ্যাস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া করে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.