মিয়ানমারের রাজপথে বিক্ষোভ, কঠোর হচ্ছে জান্তা সরকার

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে মিয়ানমারের রাজপথে যে বিক্ষোভ চলছে, তা দমাতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে জান্তা সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন শহরে আরো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট সংযোগও। এ ছাড়া নতুন এক আইন জারি করেছে জান্তা সরকার, যাতে বিক্ষোভকারীদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এসব কঠোর পদক্ষেপের পরও দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

এদিকে দুই সপ্তাহের রিমান্ড শেষে আজকালের মধ্যে আদালতে তোলা হতে পারে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির’ (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বিক্ষোভ দমাতে রবিবার রাত থেকে বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়। বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে সামরিক যান নিয়ে সেনাদের টহল দিতেও দেখা গেছে। তবে সেনা টহল উপেক্ষা করে ইয়াঙ্গুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশেই বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। নাইয়েন মোয়ে নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দেওয়ার মানে হলো, জান্তা সরকার আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু গ্রেপ্তার কিংবা গুলির ভয় আমরা পাই না। যত দিন যাচ্ছে, আমাদের ভেতর থেকে ভয় জিনিসটা কেটে যাচ্ছে।’

বিক্ষোভ হয়েছে ইয়াঙ্গুনের অন্যান্য এলাকায়ও। কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশ করেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় দাওয়েই শহরে। বিক্ষোভকারী দেখা গেছে রাজধানী নেপিডোর রাজপথেও। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে গণতন্ত্রপন্থীরা। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় শহর মায়িতকাইনায় গুলির শব্দও পাওয়া গেছে। তবে কারা গুলি ছুড়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক সাংবাদিক। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রবিবার এক বিবৃতিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেন নির্যাতন চালানো না হয়। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রু বলেছেন, ‘আন্দোলকারীদের ওপর নির্যাতন চালানো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। মিয়ানমারের জেনারেলদের বলতে চাই, এ জন্য আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

‘নেটব্লকস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গতকাল দিনের শুরুর দিকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় জান্তা সরকার। সংযোগ স্বাভাবিক হয় দুপুরের দিকে; প্রায় আট ঘণ্টা পর। তবে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরলেও ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে রিমান্ড শেষ আজ কিংবা আগামীকাল আদালতে তোলা হতে পারে সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। তবে সশরীরে নয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে তোলা হবে তাঁদের। সু চির আইনজীবী কিন মাউং জ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই নেতাকে জেরা করা হতে পারে।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.