নৌকা মার্কা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে

ইয়ানূর রহমান : সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, নৌকা মার্কা জনগণের মার্কা। নৌকা মার্কা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। নৌকা মার্কা দিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জিত হয়েছে। নৌকা মার্কা আছে বলেই বাংলাদেশে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এ মার্কার জন্যই বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। শুক্রবার দিনভর শার্শার বেনাপোল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আমি শার্শাবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই এই কারনে, যাতে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ কেড়ে নিতে না পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতিবিদদের ভোট চাওয়ার কোনও অধিকার নাই। কিভাবে তারা মনোনয়ন পায়, যারা বাংলাদেশকে চায়নি। আর তাদের দোসর কারা- যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। আমার তাদের নাম নিতে করুণা হয় কারণ তারা নীতিভ্রস্ট, আদর্শচ্যুত। এরা বাংলাদেশের আদর্শে বিশ্বাস করে না।

শেখ আফিল উদ্দিন আরো বলেন, দুস্থ মায়েদের জন্য আমরা ভাতা’র ব্যবস্থা করেছি। স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবাদের জন্য ভাতা’র ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ডিজিটাল সেন্টার থেকে দুইশ রকমের সেবা পাচ্ছেন জনগণ। আমি শার্শার ৫হাজার অসহায় ও বেকার নারীদের চাকরির ব্যবস্থা করেছি। অথচ, এই ১০ বছরে যে পরিবর্তন আমরা এনেছি তা অনেকের চোখে পড়ে না। গত ১০ বছরে আওয়ামীলীগ শিক্ষাকে বহুমুখী করেছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বিদ্যুতের জন্য আগে হাহাকার ছিল। এখন ঘরে-ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। ৯৩ ভাগ এলাকায় বিদ্যুত দিয়েছে। ১৬ শ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি আমরা। গরিব মানুষের সক্ষমতা বেড়েছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজের ব্যাপক উন্নতি করেছি। গৃহহারাদের ঘর দিয়েছি। ভবিষ্যতে এ গুলোর আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা আমাদের সরকারের আছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারের বিষয়ে সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, তারা ইশতেহারে ‘ দেশের পরিবর্তন’ আনার কথা উল্লেখ করেছেন। দেশ স্বাধীনতার ৪৭ বছরের অধিকাংশ বছর তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় ছিল। কি পেয়েছে দেশের মানুষ। মানুষ কিছু না পেলেও বিএনপি-জামায়াত জোটের ভাগ্যের উন্নতি হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের দিকে ঈঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নাকি সরকার গঠন করবে- তো সেই সরকারের প্রধান কে হবেন? সেটা কিন্তু আজ পর্যন্ত জাতির সামনে দেখাতে পারে নাই তারা। আমি তাদের কাছে প্রশ্ন রেখে যাই, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী ? না ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ? নাকি যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত- কে হবেন সরকার প্রধান ? সেটা তো স্পষ্ট করে জাতির সামনে জানায়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাদেরকে। আপনাদের সিদ্ধান্তের ওপর এ সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিলাম। কারণ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আওয়ামীলীগের আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তারা সঠিক জায়গায় ভোট দিতে ভুল করবেন না।

এ সময় শার্শা সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুজ্জামান শহিদের নেতৃত্বে পথসভা ও গনসংযোগকালে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা অলোক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, কোষাধক্ষ আলহাজ ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, চেয়ারম্যান আলহাজ বজলুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.