নিহত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ি জাফরের ফ্ল্যাট ক্রয়ের প্রধান স্বাক্ষী কম্পিউটার ফারুক!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত চট্টগ্রামের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জাফর এর ক্রয়কৃত আলিশান ফ্ল্যাটের প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন কর্ণফুলীর কম্পিউটার ফারুক।

অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার খবর জানা যায়। ৪ বছর আগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সড়কে ফ্ল্যাট ক্রয়কারী সেই মাদক কারবারী র‌্যাবের হাতে নিহত হন।

নিভর্রযোগ্য সুত্র ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্র অনুযায়ী জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা-গহিরা-পতেঙ্গা এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন মোহাম্মদ জাফর। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পুর্বে নগরীর হিলটন ফেরারী টাওয়ারে তিনি দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেন। ৭ম তলা বিশিষ্ট এ ভবনের নিচতলায় ডি-১ এবং দ্বিতীয় তলায় সি-১ নামে দুটি (১০৮৫ বর্র্গফুট বিশিষ্ট) এপার্টমেন্ট ক্রয় করেন।  ক্রয়ের চুক্তিতে একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয় ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ টাকা। দুটির একত্রিত ফ্ল্যাটের মূল্য দাড়ায় ৬০ লক্ষ টাকা।

হিলটন প্রপার্টিজ লিমিটেড ডেভেলপার কতৃক নির্মিত ভবনটির অবস্থান নগরীর আগ্রাবাদের শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনের পিছনে শ্যামলী আবাসিক সংলগ্ন ফেরারী টাওয়ার নামে ভবনটি ঐ এলাকায় বেশ পরিচিত।
এ নিয়ে ভূমির প্রধান মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন মিলন, ডেভেলপার হিলটন প্রপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষে পরিচালক আশীষ রায় চৌধুরী ও ফ্ল্যাট ক্রেতা (নিহত মাদক কারবারি) জাফরের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

দেখা যায়, ওই চুক্তির প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর এলাকার মৃত আহমেদ হোসাইন চৌধুরীর পুত্র ফারুক চৌধুরী ও দেওয়ানহাটের এস এম শওকতুল আলম।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী প্রকাশ কম্পিউটার ফারুক কি করে একজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর সম্পদ ক্রয়ের প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন?

র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত চট্টগ্রামের শীর্ষ এই ইয়াবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফরের সাথেই বা তার কী সম্পর্ক ছিলো! এ নিয়ে সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী মাঠে নেমেছে।

পুরো ঘটনা প্রবাহটি নিহত ইয়াবা ব্যবসায়ী বেঁঁচে থাকাকালীন ঘটলেও এতদিন জানাজানি হয়নি। কেউ কেউ আবার সে সময় জানলেও ভয়ে মুখ খুলেনি কেউ। এতে আরো অভিযোগ রয়েছে, নিহত ঐ মাদক ব্যবসায়ির টাকায় কেনা রেভ-ফোর ও ক্লুজার নামক দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এখনো ঢাকায় রয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আগ্রাবাদ ফেরারী টাওয়ারের ডি-১ ফ্ল্যাটটি তড়িগড়ি করে ২০ লক্ষ টাকায় (কেনা ৩০ লক্ষ) চাঁদপুরের সোহেল নামে একজনকে বেচে দেন। আর সি-১ ফ্ল্যাট এখনো বন্ধ/তালা লাগা অবস্থায় রয়েছে। আনোয়ারার সর্দার ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি এসব সম্পদ দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক চৌধুরী প্রকাশ কম্পিউটার ফারুক বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি নানা লোকজন তো আমার কাছে আসে। এই ছেলেটাকে আমি কখনো দেখিও নাই চোখে। তাকে নিয়ে আসছিলো আমার এলাকার একটা ছেলে। সে তখন ফিরিঙ্গাবাজারে কি একটা করত। এলাকায়ও দেখছি।’

এরপরে ৯৫০ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাট সে আমার আপন ভাইরা ভাই শওকত। তাদের রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর কি একটা নাম ছিলো। এখন মনে পড়ছে না। আমি তখন জুবিলী রোডে আমার দোকানে বসি। ওই ছেলে বলল যে, সে ভাড়া ঘরে থাকে। আমি বললাম এক কাজ কর তুমি। ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটা ফ্ল্যাট বুক করছিলো। এছাড়া আমি আর তার সম্পর্কে কোন কিছুই আমার জানা নাই। এটা অনেক পুরনো কথা। আমার নির্বাচনের আগে। এই দলিল নিয়ে, ওই যে আগ্রাবাদ যে দলিল করলাম ৯৫০ স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাটের। খবর পেয়েছি, ওটার কপি অনেক জায়গায় পাঠিয়েছে।’

ও ছেলে যে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী সেটা জানতেন কিনা জানতে চাইলে ফারুক চৌধুরী কোন সদুত্তর দেননি। তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই (শনিবার) রাতে ইয়াবা ব্যবসায়ী জাফর র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুটি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে সে সময় র‌্যাব-৭ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

নিহত জাফর (৩২) এর বাড়ী আনোয়ারা উপজেলার বদলপুরা গ্রামে। সে কালামিয়া বাড়ির নুর মোহাম্মদ এর ছেলে। যিনি মাদক কারবারের সাথে জড়িত ছিলেন। আনোয়ারা-কর্ণফুলী-গহিরা ও পতেঙ্গায় নামে বেনামে বহু সম্পত্তি রয়েছে। কাবিননামা মূলে তার চার স্ত্রী রয়েছে। তার বড় সন্তান পানিতে পড়ে মারা যান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালের ১৩ মে র‌্যাব-৭ কর্তৃক চট্টগ্রাম বহির্নোঙ্গর থেকে উদ্ধারকৃত ৫ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সংক্রান্ত মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক প্রধান পলাতক আসামি ছিলেন নিহত জাফর।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.