নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে আগ্রহী বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা আর ১০ জুলাই ঢাকা-১৮ সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন মারা যান। তাদের মৃত্যুতে এই দুটি আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন নবী উল্লাহ। কিন্তু উপনির্বাচনে নবী উল্লাহ ছাড়াও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। তবে দলটির একটি সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
নবী উল্লাহ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আমি ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে করেছি। সুতরাং উপনির্বাচনেও আমি দলের প্রার্থী হবো। অন্য কারও দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। কিন্তু উপনির্বাচনে তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। এই দুজন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণাও শুরু করে দিয়েছেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ প্রবেশ মুখের এই দুটি আসন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগকে এই দুটি আসন ছেড়ে দিলে দলের নেতাকর্মীদেরও মানসিক মনোবল ভেঙে যাবে। তাছাড়া ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসন শূন্য হয়েছে অল্পকিছু দিন আগে। তাই দ্রুতই এই আসনগুলোতে নির্বাচন করতেই হবে—নির্বাচন কমিশনের এমন সাংবিধানিক কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধরে নেওয়া যেতে পারে আগামী ১-২ মাস পরে এই আসনগুলোর নির্বাচন হবে। ততদিনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতেও কোনও সমস্যা থাকবে না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির বিবেচনা নিয়ে আমরা যশোর ও বগুড়া উপনির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। এখন আগামীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনগুলো অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.