চট্রগ্রামে বিএনপি দলে আবুল হাশেম বক্কর পরিক্ষিত নেতাদের একজন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত এক তরুণ রাজনীতিবিদ। নিঃস্বার্থ কর্মীবান্ধব চট্রগ্রাম মহানগর বিএনপিতে সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বগুণ সময়ের সাহসী নাম আবুল হাশেম বক্কর।
প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে সদ্য ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাতীয়তাবাদী দলের নির্ভীক সৈনিক তিনি।
আপোষহীন নেত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে দলকে উজ্জীবিত করেছেন। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সাংগঠনিক ইউনিটে যার সাথে সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরেক তরুন প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন।
বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন যুবদলের রাজনীতি দিয়ে যার রাজনীতির পথচলা শুরু। মহানগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক অভিযাত্রায় যুক্ত হয়ে দেশ, সমাজ তথা দলের জন্য নিবেদিত যার প্রাণ। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১৯৯৪ সালে একরামুল করিম-হেদায়েত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। ছিলেন পুর্বের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রয়াত হেদায়েত ইসলামের মৃত্যুর পরে যিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নিজেকে তৈরী করেছেন। দলের দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে বারর বার প্রমান করেছেন।
চট্রগ্রাম মহানগরে নেতৃত্ব দেয়ার বাস্তবিক অভিজ্ঞতা এবং আপোষহীন ভুমিকার জন্য পেয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও যার ঝুঁলিতে। যখনই দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তখনই তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের নির্ভীক নানা বিশেষণী পদ আর খেতাব।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,দুরদৃষ্টি সম্পন্ন সাহস এবং কর্মযজ্ঞ তথা অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ।
সে সময়ে উক্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধূরী।
অনেকটা শক্ত, মজবুত রাজনৈতিক ভিত্তি এবং তৃণমূলের প্রতি অগাধ টান ও চট্রগ্রামের মানুষের ভালবাসার টানে যিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো পদ ছেড়ে দিয়ে অবলীলায় মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের পদ অর্জন করে নেন। তিনি নিশ্চয় আর যা-ই হোক কর্মী বিচ্ছিন্ন কোন রাজনৈতিক নেতা হতে চাননি।
মিঃ আবুল হাশেম বক্কর কর্মী বান্ধব এ স্পষ্টভাষী নেতার সাহসী ও দৃপ্ত উচ্চারণ যেমন চাঙ্গা করে একজন কর্মীর হৃদয় নিংড়ানো আবেগ, ঠিক তেমনী তাকে অগ্রজ ভুমিকায় থেকে কর্মসূচী বাস্তবায়নের বাস্তবিক ও ক্যারিশম্যাটিক বহুমাত্রিক গুণাবলী তাঁকে দ্রুত নিয়ে এসেছে লাইমলাইটে। পরিণত হয়েছেন সময়োত্তীর্ণ আদর্শিক নেতাদের একটি উদাহরণ।
রাজনীতিক মামলায় বহুবার কারাবরণ ও শারীরিক নির্যাতনকে উপেক্ষা করে দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সাহসী ও সময়োপযোগী ভুমিকা তাঁকে স্থান করে দিয়েছে লাখো কর্মীর হৃদয়ে। ফলে দীর্ঘদিন দলীয় পদ পদবী ছাড়াও মাঠে ময়দানে নানা কর্মসূচীতে ছিলেন সোচ্চার। এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন প্রতিটি কর্মীকে। শিখিয়েছেন কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশ রাজনীতিতে মোকাবেলা করার কৌশল।
একটি রাজনৈতিক দলে, কর্মী বিহীন দল মৃত। তিনি কর্মী তৈরীর এ কারিগর এ নেতা চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিচরণ করে হয়েছেন তৃণমূলের আশা আলোর দিশারী। দুঃসময়ে দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে রেখে পালিয়ে যায়নি বলেই ”দুঃসময়ের কান্ডারীর খেতাব” তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছে।
রাজনীতিবিদদের মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন, হয়রানি নতুন কিছু নয়। সব ভয়কে তুচ্ছ করে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দাড়িয়েছেন মিছিল,মিটিং আর প্রতিবাদে। তুলে ধরেছেন অকপটে সরকারের অন্যায় অত্যাচারের করুণ কাহিনী। কারাগারকে পরিণত করেছেন নিজের রাজনীতির শিক্ষাকেন্দ্র।
রাজনীতিবিদ হিসাবে আবুল হাশেম বক্করের নামে নানা সময়ে একাধিক রাজনৈতিক মামলা রুজু হয়েছিলো। যার সবকটিতে জামিনে মুক্ত রয়ে সক্রিয় রয়েছেন রাজনীতির মাঠে। তৃণমুল বিএনপি নেতাদের দাবি,তাকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র মুলক রাজনীতিক মিথ্যা মামলা সবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত মামলা গুলো মিথ্যা,বানোয়াট আর ভিত্তিহীন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দল মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে। এমনকি তিনি আরো বলেন, বিএনপি গনতান্ত্রিক দল। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিএনপি’র আদর্শের সাথে যায়না।
জনগন এসব বিশ্বাসও করেনা। দেশের গণমানুষের দল বিএনপি, সুতরাং বিএনপি কখনো হারিয়ে যাবেনা। এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
মহানগর বিএনপি’র বর্তমান সাংগঠনিক বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ইতোমধ্যে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। গনতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটি ইউনিটে কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। কমিটি গঠনে বিভিন্ন ইউনিটে অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। সবাইকে হয়তো জায়গা করে দেয়া সম্ভব হয়না। তবে অবমূল্যায়নের নীতিতে তিনি বিশ্বাসী নয় বলে স্পষ্ট দাবী করেছেন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে চট্রগ্রাম মহানগর বিএনপির এই সম্পাদক বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে দীর্ঘ লড়াই চলছে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেনা বিএনপি’র কোন কর্মী।
এমনকি গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চলমান আন্দোলন চলবে। এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত চলবে। আগামীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত যেকোন গনতান্ত্রিক কর্মসূচী বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান করেন তিনি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.