ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবেলায় আগের ৩ গুণ প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ:
মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’মোকাবেলায় তিন গুণ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে সরকার। উপকূলীয় জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতভাগ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টাও থাকছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ‍রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘুর্ণিঝড়ে রূপ নিলে তার হবে ‘ইয়াস’। ওমানের দেওয়া আরবি শব্দ ইয়াসের অর্থ ‘হতাশা’।

শনিবার বিকালে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির পলিসি কমিটির সভার বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।

এনামুর রহমান বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় শতভাগ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে হবে। যে করেই হোক সবাইকে শেল্টারে আনতে হবে, একজনকেও রেখে আসা যাবে না। এবার আমরা টার্গেট রাখব, মৃত্যুহার যেন জিরো হয়।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি আমলে নিয়ে এবারও তিন গুণ বেশি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময়ে পাঁচ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার করা হয়েছিল। আম্পানের সময়ে ১৪ হাজার ৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৪ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি মানুষকে রাখা হয়। কোভিডের কারণে তিন গুণ আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবহার করা হবে। সবার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে।’

আশ্রয়কেন্দ্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সতর্ক থাকার জন্যে মাঠ পযায়ে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোভিড রোগী থাকলে তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আক্রান্ত কেউ যেন সুস্থ মানুষের মাঝে না আসতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নতুন করে সংক্রমণের সৃষ্টি না হয়।’

প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সব সদস্যদের এরমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। তারা প্রচার শুরু করেছে। শেল্টার সেন্টারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে প্রচার করছে। ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে। স্কাউটের ছয় লাখ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। শুকনা খাবার মজুত রয়েছে। রবিবার থেকে বিভিন্ন জেলায় এসব খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

বুধবার আঘাত হানতে পারে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সম্ভাব্য ঘুর্ণিঝড়টি এখনও হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তাই সমুদ্রবন্দরে এক নম্বর দূরবর্তী সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপ হওয়ার পর ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে এলে সঙ্কেত বাড়ানো হবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী জেলায় আঘাত হানতে পারে। এসব জেলায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএমএস মোস্তফা কামাল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সাতক্ষীরা খুলনা উপকূলে মে মাসের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানতে পারে। সে ধরনের পূর্বাভাস দেখেই আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি সভা করেছি।’

তিনি জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ১৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ের জন্য ১৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে এবং দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা রয়েছে।

এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওয়াটার ট্যাংকি রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসন সব সময় সজাগ থেকে বরাবরের মত দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম হবে।

খুলনা ও পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুতসহ ঘূর্ণিঝড় পূর্ব, ঘূর্ণিঝড়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত জেলা প্রশাসকরা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.