কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৩তম বোর্ড সভা সম্পন্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আজ ১৬ জানুয়ারী ২০২০ তারিখ সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৩তম বোর্ড সভা কউক সভা কক্ষে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ, এলডিএমসি, পিএসসি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সকলের সাথে পরিচিত হন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য হিসেবে ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের ফুল এবং ক্রেস্ট দিয়ে বিদায় দেন। তিনি জানান যে, বোর্ড সদস্য হিসেবে উক্ত ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পরামর্শ এবং সহযোগিতা দিয়ে সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন তার জন্য বোর্ড সভার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

অত:পর তিনি অফিস ভবন নির্মানের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং নির্মাণ কাজ দ্রæত করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া ও তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটা পুকুর পুনর্বাসনসহ ভৌত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তাই আগামী ১৭ মার্চ ২০২০ বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে উক্ত প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে চাই। এ লক্ষ্যে তিনি প্রকল্প পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট সকল কে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার অনুরোধ জানান।

সভায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে সদস্য (প্রকৌশল) লে: কর্নেল মোহাম্মদ আনোয়ার উল ইসলাম কে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতো মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাসষ্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্ত করণ প্রকল্পটি গত ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করে।

তাই খুব শীঘ্রই সরকারি বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে কউক চেয়ারম্যান বলেন, যতদিন পর্যন্ত উক্ত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে না ততদিন পর্যন্ত সংস্কার কাজ চালিয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে বোর্ড সদস্যবৃন্দ একমত পোষণ করেন। তিনি আরো বলেন, সুগন্ধা মোড়-সুগন্ধাপয়েন্ট-লাবনী পয়েন্ট সংযোগ সড়ক প্রশস্ত করণ ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বিষয়ে ও ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে পিইসি সভা হয়েছে।

খুব শীঘ্রই উক্ত প্রকল্প অনুমোদন পূর্বক কাজ শুরু করা হলে কক্সবাজারে যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো জানান, পরিকল্পিত পর্যটন নগরী বাস্তবায়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই খুব শীঘ্রই পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনার ডিপিপি অনুমোদন পূর্বক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে।

এ ছাড়া কউক চেয়্যারম্যান বলেন, (ক) বাঁকখালী নদী সংলগ্ন ১৫০ ফুট প্রশস্ত সবুজ বেস্টনী সহ সড়ক উন্নয়নপ্ রকল্প, (খ) লাইট হাউজ-পাহাড়তলী- শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক প্রশস্ত করণ (গ) সার্কিট হাউজ হতে আনবিক শক্তি কমিশন পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণ (ঘ) কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ (ঙ) সুগন্ধা পয়েন্ট হতে কলাতলী পর্যন্ত ০.৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ইত্যাদি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নের ফলে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প বিকাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপস্থিত বোর্ড সদস্যবৃন্দ কউকের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সকলে সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সভায় বোর্ড সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.