হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করবেন কেন?

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্পদশালী, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ। যা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ হতে আজ পর্যন্ত ফরজ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এ হজকে অস্বীকার করা বা হজের কার্যাবলীর সমালোচনা করা কুফরি। হজ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির সম্বন্বয়ে এক যৌগিক ইবাদত।

সামর্থবানদের মধ্যে যাদের ওপর হজ আদায় করা ফরজ হয়েছে অথচ হজ আদায় থেকে তারা নিজেদেরকে বিরত রেখেছেন, তাদের সম্পর্কে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

কারণ ফজর হজ আদায় না করে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে ইয়াহুদি ও নাসারাদের মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যা মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক বড় দুঃসংবাদ। তাই হজ আদায়ের কঠোর তাগিদ সম্পর্কিত প্রিয়নবির দুটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই পরিমাণ পাথেয় এবং বাহনের মালিক হয়েছে; যা তাকে আল্লাহ তাআলার ঘর পর্যন্ত পৌছে দিবে, অথচ সে হজ করেনি।

ওই ব্যক্তি ইয়াহুদি কিংবা নাসার হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, ইহাতে (আল্লাহর) কিছু যায় আসে না। আর ইহা ঐ কারণে যে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষের প্রতি আল্লাহর উদ্দেশ্যে বাইতুল্লাহর হজ ফরজ; যে ব্যক্তি সেই (বাইতুল্লাহ) পর্যন্ত পৌছার সামর্থ লাভ করেছে। (তিরিমজি)

হজ ফরজ হওয়া ব্যক্তির হজ আদায়ে কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও যারা হজ আদায় থেকে বিরত রয়েছেন; তাদের পরিণাম কত ভয়াবহ যে, এ অবস্থায় মৃত্যু হলো ইয়াহুদি-নাসারাদের মৃত্যুর সমান। (নাউজুবিল্লাহ) প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে বর্ণনা করেন-

হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তিকে তীব্র অভাব, অত্যাচারী শাসক কিংবা গুরুত্বর অসুস্থতা হজ আদায় করতে বাধা প্রদান করে নাই এমতাবস্থায় ওই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে; অথচ সে হজ পালন করেনি। এবার চাই সে ইয়াহুদি হয়ে মারা যাক অথবা নাসারা হয়ে মারা যাক। (দারেমি)

পরিশেষে…
মানুষ যেহেতু তার মৃত্যুর খবর জানে না যে, তা কখন সংঘটিত হবে। আবার কতদিন সম্পদশালী থাকবে তাও মানুষের জানা নেই। তাই হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা জরুরি।

কারণ হজ ফরজ হওয়ার পর যদি পরবর্তীতে কোনো ব্যক্তি সম্পদহারা হয়ে যায়; তবে তার ওপর ফরজ হজ আদায়ের হুকুম রহিত হবে না। আবার ফরজ হজ আদায় না করার উল্লেখিত পরিণতি তাকে ভোগ করতে হবে।

আর তাই হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী অনতিবিলম্বে হজ আদায় করা মুসলিম উম্মাহ একান্ত জরুরি কাজ। আর হজে মাবরুর তথা কবুল হজের একমাত্র পুরস্কার সুনিশ্চিত জান্নাত।

এ কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখিত হাদিসদ্বয়ের মাধ্যমে হজ সম্পাদনে বিলম্ব না করে যথা সময়ে হজ আদায় করার জোর তাগিদ প্রদান করেছেন।

আর হজের মধ্যেই রয়েছে পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণের শিক্ষা। কেননা হজ স্ত্রী-পুত্র, স্বজন-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-মমতাসহ অর্থ সম্পদের অহেতুক মোহ ত্যাগ করে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ীত্ব উপলদ্ধি করার মাধ্যমে পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের আহ্বানে সাড়া দেয়ার শিক্ষা দেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সামর্থবানদেরকে দেরি না করে হজ সম্পাদনের তাওফিক দান করুন। তাদেরকে হজে মাবরুর দান করুন। আমিন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.