বজ্রপাতের সময় বিশ্বনবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক যে কোন বিপর্যয়ের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে বিচলিত না হয়ে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে বজ্রপাত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি ভীতি ও আশা সঞ্চার করতে তোমাদেরকে বিদ্যুতের চমক দেখান এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা। আর বজ্রধ্বনি তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তাঁর ভয়ে ফেরেশতারাও (তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে থাকে)। আর তিনি বজ্রপাত করেন এবং যাকে চান এর মাধ্যমে বিপদাপন্ন করেন। তারা আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতণ্ডা করে থাকে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।’’ (সুরা আর রাদ: আয়াত ১২-১৩)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত) সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদাপদে তারা বিচলিত না হয়ে নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া-

‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান: আয়াত ১২)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি যে লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি তা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন?’ এর জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ভেবে শঙ্কিত হই যে বৃষ্টি আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না। কেননা আগের উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে (বৃষ্টি বর্ষণের আকারে) আজাব পতিত হয়েছিল।’ (মুসলিম)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের শব্দ শুনতে পেতেন তখন বলতেন-

‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআ’জা বিকা ওয়া আ’ফিনা ক্বাবলা জালিক।’ (মুসনাদে আহমদ তিরমিজি)

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার ক্রোধ দ্বারা হত্যা কর না, আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস কর না বরং এর পূর্বেই আমাদেরকে ক্ষমা কর।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) বজ্রপাতের শব্দ শুনলেই পড়তেন, ‘সুবহানাল্লাজি ইয়ুসাব্বিহুর রা‘অদু বিহামদিহি।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ইবনে আবি জাকারিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়া পড়বে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, সে বজ্রে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় এবং মহামারি সহ সব ধরনের বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন এবং তার কৃপার চাদরে আবৃত করে নিন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট, ই-মেইল- masumon83@yahoo.com

মন্তব্য করুন

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্র রিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য বা বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য বা বক্তব্য সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.