মোঃ নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজারঃ
বান্দবানের লামায় গাছ পরিবহনের জন্য হাতির ব্যবহার বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে লামা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গহীন বনে গাছ পরিবহণ কাজে এসব হাতি ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে । আর এসবের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে হাতি আটককারি চক্র ও তাদের লালন পালন করে ট্রেনিং এর মাধ্যমে প্রস্তুত করে এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার অনেকেই আছে হাতি পালনের কথা বলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় থেকে অনুমতি নিয়ে হাতি পালনের কথা বলে সেইসব হাতি দিয়ে গহীন অরণ্যে গাছ টানার মতো অমানবিক কাজ করাচ্ছে বলে জানান বনবিভাগ। আরো জানা গেছে যেসব কাঠ হাতি দিয়ে টানা তাও অবৈধ বলে জানা গেছে । এভাবে বনের সম্পদ যেমন নষ্ঠ করছে তেমনি বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন হচ্ছে বলে জানান সচেতন মহল ।
# পোষা হাতি আটক
# গাছ টানতে ব্যবহার করছে হাতি
# বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘিত
# ৬শ ঘনফুট কাঠ জব্দ
বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পোষা হাতি আটক করেছে বন বিভাগ। শুধু তায় নয়, এ সময় আটক হাতির মাহুত শিপার আহমেদসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৬শ ঘনফুট কাঠও জব্দ করা হয়।গত শনিবার উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি লেমুপালং এলাকার পালং খাল ও শীল ঝিরির মোহনা থেকে এসব কাঠ জব্দের পাশাপাশি হাতি আটক করা হয়। আটক হাতিটি সিলেট জেলার মোমিন কোম্পানীর বলে জানান বন কর্মকর্তারা।
সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সরই ও গজালিয়া এ দুই ইউনিয়নের মঝামাঝি লেলুপালং এলাকার পাহাড়ে শ্রমিক লাগিয়ে বড় বড় আকারের গাছ কেটে হাতি দিয়ে পরিবহনের পর লোকালয়ে নিয়ে অবৈধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন মোরশেদ আলম চৌধুরী ও তার ম্যানেজার মো. রফিক নামের দুই ব্যক্তি। স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলালের নির্দেশনায় লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আতা এলাহি সঙ্গীয় সদস্যরা গত শনিবার সকাল থেকে দুপুরে পর্যন্ত লেমুপালং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন কাজে ব্যবহৃত মাহুত সহ একটি হাতি আটক ও গর্জন, শিউলী, লালীসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৬শত ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ জানান, বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন করে হাতির ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে হাতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাদের সংরক্ষন করতে হবে। হাতির বিচরণ ভুমি তৈরি করতে হবে। অণ্যদিকে যারা পরিবেশ ধ্বংস করে গাছ কাটছে তাদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন । আর যেন এমন কাজ করতে সাহস না পায় ।
লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম জানান,আতা এলাহী অবৈধভাবে হাতি দিয়ে গাছ পরিবহরের খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা বন বিভাগের দুইটি টিম লেমুপালং – মৌজায় অভিযান চালিয়ে মাহুত শিপার আহমেদ সহ হাতি ও কাঠ জব্দ করেছি। ওই এলাকায় কাঠ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত আর কোন পোষা হাতির সন্ধান পাওয়া যায়নি। আটক হাতি শনিবার দিনগত রাতেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাস্থ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে । আটক হাতির মাহুত সিলেটের শিপার আহমেদ কে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হাতির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হতে পারে বলে ধারণ করা হচ্ছে।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত¡াবধায়ক মাজহারুল ইসলাম জানান, লামা বনবিভাগ থেকে গতকাল (শনিবার) রাত ৮টার দিয়ে ২০ বছর বয়সী একতি হাতি আমাদের হস্তান্তর করে হাতিটি স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল । বর্তমানে এটি আমাদের পার্কের তত্ত¡াবধানে রয়েছে।
অভিযানে কাঠ জব্দ সহ মাহুত ও হাতি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল জানান, অবৈধভাবে কাঠ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পোষা হাতির মালিকের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর অধীনে ও কাঠ পাচার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফরেস্ট ট্রানজিট রুল্স ১৯৭৩ এর অধীনে মামলার প্রস্ততি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। অবৈধভাবে কাঠ পাচার রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.