চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া অর্ধডজন মামলার আসামী ইউপি সদস্য আবুল কালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট ষ্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানার উপপরিদর্শক মো: জিয়া উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এ অভিযান চালায়।আবুল কালাম ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও রুস্তম আলী চৌধুরীপাড়ার মৃত আকবর আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অফিসে অগ্নিসংযোগ, লক্ষ্যারচরে নবনির্মিতব্য শহীদ মিনার ভাংচুর,এলাকায় ভূমিদস্যুতা,অসহায় পরিবারের জমি জবর দখল ও নাশকতাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ইউপি সদস্য আবুল কালামকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধৃত আবুল কালাম এমইউপি’র বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা নং জিআর ৪১৮/২০, সিআর ৮৭৬/২০, সিআর ৭২০/১৯, জিআর ৪৫২/১৩, জিআর ৩৫৬/১৪, জিআর ৪৭২/১৮, জিআর ৮১/১৮সহ গ্রেফতারী পরোয়ানা, বিচারাধীন, নিয়মিত ও বন মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে। তাকে ১৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চকরিয়া উপজেলার ১৪৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মানের অংশ হিসেবে গত আট অক্টোবৱ বুধবার সকালে আমজাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় শহীদ মিনার নির্মান কাজ উদ্বোধন করতে আসেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব গুলশান আকতার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরতেই নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও তারভাই আইয়ুব মো. ইকবাল। পরে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাঁধা প্রদানকারি উভয় পক্ষের সাথে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে বাঁধা প্রদানকারী পক্ষের দাবিকৃত ডকুমেন্ট যথাযথ না হলেও বিরোধীয় ৯ শতক জায়গা বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হবে। এসময় বাঁধা প্রদানকারিরা এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রথমে রাজি হলেও পরে বেঁকে বসে কোন জায়গায় শহীদ মিনার নির্মান করা যাবেনা বলে হুংকার দিয়ে জমির দাতা পক্ষের প্রতিনিধি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আবছার সওদাগর ও তার পুত্র নুরুল আজিমের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল। এরই অংশবিশেষ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে বাঁধা ও হামলার প্রতিবাদে আজকের এই মানববন্ধন।
স্থানীয় জনসাধারণ বলেন, মায়ের ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে ও বাংলা ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চকরিয়া উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে শহীদ মিনার। এতে ছোট একটি শিশু ও জানতে পারবে ভাষা দিবস কী? কেন এবং এদিন শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হয়? ভাষা দিবসের তাৎপর্য, দেশপ্রেম, শ্রদ্ধাবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাবে। শহীদ মিনার নির্মাণ হলে উপকৃত হবে এলাকাবাসী ও মেধা বিকশিত হবে স্কুলের কোমল ছাত্র-ছাত্রীদের।কিন্তু লোলুপ দৃষ্টিতে আইয়ুব মো.ইকবাল গং নিঃস্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন।
১৯৭৩ সালে প্রথমে আমজাদীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ১৯৭৮ সালে আৱ এস খতিয়ান নাম্বার-১৬১৬, এম আর আর খতিয়ান নাম্বার-৫৯৬ এৱ দাগ নাম্বার ১৫৪৩, ১৫১৬ ও ১৬৪৭, বিএস খতিয়ান নম্বর ৭৭২ ও ৭৭৩, ১৯৯৬ দাগেৱ ৩০ শতক জমি স্কুলের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়ে দানপত্র করেন। সেই জমির উপর সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের জন্য শহীদ মিনার নির্মাণ করতে গেলে লোলুপ দৃষ্টিতে আইয়ুব মো.ইকবাল ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম গং কাজে বাধা প্রদানসহ হামলা কৱে এরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিদস্যু দখলবাজ ও প্রতারণা করে অন্যের জমি হাতিয়ে নেয়া চিরাচারিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন শহীদ মিনারের একাংশ ভেঙে ফেলাৱ একদিন পর লক্ষ্যারচরেৱ সিকলঘাট স্টেশন থেকে পুলিশ আবুল কালাম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৩৯
আগের খবর

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.