নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত ১০ আগস্ট কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার খরুলিয়া বাজারে গণপিটুনিতে মাদক ব্যবসায়ী নবী হোসেন নিহতের ঘটনায় দুম্ব্রজাল তৈরী হয়েছে। নবী হোসেন এর পরিবার পক্ষ বলছে তাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। তার কোন ইয়াবা সংক্রান্ত কোন মামলা নেই। সে যদি দোষ করে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে পারতো।স্থানীয় চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।
এখন সে আরো এলাকার তার কিছু মানুষ নিয়ে আমার ভাইকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। এমনটি বলছেন নিহতের পরিবার । এদিকে এই হত্যাকান্ডের নবী হোসেন এর বড় ভাই বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। মামলা নং জিআর ৬৫৭/২০
তবে এই ঘটনার কিছু এলাকার নিরপরাদ লোকজন এই মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে জানান আসামীর পরিবার থেকে।
দায়ের করা মামলায় ঘাট পাড়ার ৫নং আসামী করা হয়েছে খরুলিয়ার তরুন ব্যবসায়ী আবুু বক্কর ছিদ্দিক এর পুত্র জসিম উদ্দিনকে (৩০), ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড়ের সদস্য শরীফ উদ্দিন (৩৫) ঘাটপাড়ার মনিরুজ্জামান এর পুত্র আজিম উদ্দিন(২৮) আবদুল করিমের পুত্র আবছার কামাল সহ আরো কয়েকজন তাদের আসামি করায় ব্যাপক প্রতিক্রিয় সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায় এলাকায়।
দাবী ওঠেছে, মামলা থেকে তরুন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন ও অন্যান্যদের অব্যাহতি প্রদানের।
ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিন মোবাইলে প্রতিবেদককে জানিয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যার টিপু সুলতান আমাকে টেলিফোন করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই।গিয়ে দেখি একজন লোককে তারা ইয়াবাসহ আটক করে রেখেছে। সেই নবী হোসন পালাতে চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাকে ধরে মারধর করে ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তোলে দেন।পরর্বতীতে জানতে পারি নবী হোসন মারা গেছে এবং মামলায় আমাকে ২নং আসামী করা হয়েছে। যদি আমাকে আসামী করে তবে চেয়ারম্যান কেন আসামী হলো না? তিনিও তো সেখানে উপস্থিত ছিলেন! আর আমি তিনি ড়েকেছেন বলে গিয়েছি।
এদিকে পরিবারের দাবি, ঐদিন ঠিন ও কাঠ কিনতে খরুলিয়া বাজারে যান নিহত নবী হোসন।সেখানে মারধর করার পর পুলিশে দেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা । সঙ্গে ১৩ পিছ ইয়াবা ও গাজা দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে জানান নবী হোসেন এর বোন তৈয়বা।
এরপর নিহত নবী হোসেন এর বাড়ি গিয়ে চেয়ারম্যান এর ভাই মেসবাহ হুমকী দেয় বলে জানান নিহত নবী হোসেন এর বোন তৈয়বা। এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, নবী হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি।
নবী হোসেন এর স্ত্রী জানান , এটি পরিকপিত হত্যা আমার স্বামীকে তারা হত্যা করেছে ।
ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, খরুলিয়া বাজারে এনাম সওদাগর আমাকে ফোন দেয় উনি আমাকে জানান, খরুলিয়া বাজারে বাংলাবাজারের একটা ছেলে নবী হোসেন পিতা আবদু শুক্কর তাকে আমরা ইয়াবা নগদ ১লাখ ২৮হাজার ৪০টাকা ও একটি চাকুসহ তাকে এখানে ধরেছি। তখন আমি একটা দাওয়াতে ছিলাম আমার সাথে ৯নং ওয়ার্ড়েও ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনসহ সাথে আরো পাচ ছয়জন লোক ছিলো। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি।ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসন লাফ দিয়ে পালিয়ে যেতে চাইলে তখন আমি নিচে পড়ে যাই। সে পালিয়ে যেতে দেখে স্থানীয়রা তাকে দৌড়ে গিয়ে ধরে ফেলে এসময় টমটম চালক শাহাব উদ্দিন নামের একজন ছুরিকাহত হয়। পরে থাকে স্থানীয় জাফর কোম্পানীর বাড়ির পাশে ফিলিং ষ্টেশন এর পাশে গিয়ে পাকড়াও করে নিয়ে আসে খরুলিয়াতে। পরে পুুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশের হেফাজতে নবী হোসেন মারা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজার সদর থানার ওসি খায়রুজ্জামান জানান, আমরা তাকে প্রথমে চিকিৎসা করে থানায় নিয়ে আসি। সে সকালে পুনরায় অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। ।
স্থানীয়রা বলছে, মাদক, সন্ত্রাসসহ যাবতীয় অপরাধকর্ম নির্মূলে তাদের যুব সমাজের প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে। আর এটি ধমিয়ে দিতে ব্যবসায়ী জসিমসহ এলাকার যুবকদের এই মামলার আসামী করা হয়েছে বলে মনে করছে এলাকাবাসি। তারা আরো বলছে প্রকৃত যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আড়াল করতে এমন নিরপরাধ কিছু মানুষকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে। আর এতে একটি চক্র কাজ করছে বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে যখন পাকড়াও করে তখন তার হাতে ধারালো ছুরি ছিল। এই ছুরি দিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানকে আঘাত করেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসি তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।তখনও মাদক ব্যবসায়ী নবী হোসেন এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে সাধারণ মানষুকে আঘাত করতে চাইলে এলাকাবাসি তাকে ধরে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করে। এদিকে স্থানীয় জিয়া বলছে , তরুন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন অত্যান্ত ভদ্র স্বভাবের সে দোকান থেকে সহজে কোথাও যায়না। আমার মনে হয়না সে এই গণধোলাইতে অংশ নিয়েছে। এটি তার পরিবারকে হেয় করতে এমন মামলার আসামী করা হয়েছে বলে মনে করছি।
প্রকৃতপক্ষে ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার ও স্থানীয়রা।
সেই সাথে তরুন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.