মোঃ নেজাম উদ্দিন|
হাসপাতাল যেখানে রোগ হলে রোগীরা ভাল হবার জন্য ছূটে যান । কিন্তুু কক্সবাজার জেলায় তার ব্যতিক্রম বললে চলে।যেণ হাসপাতালে আসলে রোগী হয়ে ঘরে ফিরতে হবে এমন পরিবেশ বলা চলে। হাসপাতালে গেলে নাকে কাপড় দিয়ে যেতে হয় চারপাশে আর্বজনা ভরা,দুর্ঘন্ধ আসে, ফ্লোর পরিস্কার করা হয় না রোগীদের নিচে ফেলে রাখা হয়। আর হয়রানির সীমা থাকে না নানা ধরনের দালাল তো আছেই। কক্সবাজার জেলায় পৌর শহর সহ প্রায় একশত এর কাছাকাছি হাসপাতাল, ডায়গনষ্টিক সেন্টার ও প্যাথলজিক্যাল সেন্টার পরিবেশ ছাড়পত্র বিহীন অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে, গায়ের জোরে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শহরের বড় বড় হাসপাতাল করে ব্যবসা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। এ দিকে কক্সবাজার জেলার ৭ টি উপজেলার প্রায় একশতের উপর হাসপাতালের কয়েকটি ছাড়া বাকি একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক। তার মধ্যে কক্সবাজার সদরের হাসপাতাল, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মিলিয়ে ৩০টি প্রতিষ্ঠান, পেকুয়াতে ৫টি, চকরিয়াতে ৩২টি, রামুতে ৬টি, মহেশখালীতে ৫টি, উখিয়াতে ৬টি, টেকনাফে ৮টি প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল বা বিভিন্ন নামে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। একটি সূত্র জানান এসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে, সিভিল সার্জন কক্সবাজার অফিস থেকে নামে মাত্র অনুমতি নিয়ে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসে ফোন করা হলে, সিভিল সার্জন অফিসারের পি.এ পরিচয় দানকারী জনৈক ওসমান নামের একজন বলেন-করিমউল্লাহ নামের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য। এদিকে চকরিয়া মালুমঘাট মা-মণি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক ডাঃ নিকুলাস বিপুল হালদার জানান-আমরা পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ফরম ও গ্রহণ করেছি। কিছু জটিলতার কারণে অনুমতি নিতে দেরি হচ্ছে। ডাঃ নিকুলাস আরো বলেন-বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিজস্ব ট্রেইনার রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় হাসপাতাল রয়েছে ৬৩ টিএবং ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজিক্যাল মিলিয়ে মোট ৯৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা পৌর মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নাম মাত্র ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কক্সবাজার পৌর মেয়র কর্তৃক অনুমতি ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন ৩০টি, যার মধ্যে ৪০ বেডের ২টি, তা হল সেন্ট্র্রাল হাসপাতাল ও ডিজিটাল হাসপাতাল। ২০ বেডের ২টি, তা হলো জেনারেল হাসপাতাল ও ঈদগাও মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল ঈদগাও। ১০ বেডের ৬টি তা হলো-কক্স ন্যাশনাল হাসপাতাল কক্সবাজার, কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল কক্সবাজার, সী-সাইড হাসপাতাল কক্সবাজার, মডেল হাসপাতাল ঈদগাও, সূর্যের হাসি ক্লিনিক কক্সবাজার, জম জম হাসপাতাল, ঈদগাও বাজার, এছাড়াও কক্সবাজার সদরে বেড বিহীন শুধুমাত্র হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নাম দিয়ে পরিবেশ অনুমোদন বিহীন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বিহীন ব্যবসা করার সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। ভূক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি জানান সাইনবোর্ডে যে ডাক্তারের নাম দেখে এসেছিলাম, সে ডাঃ এখানে বসেন না। আমাকে বাধ্য করা হলো অন্য ডাক্তার দেখাতে। এছাড়া প্রাপ্ত তথ্যে জেলার চকরিয়া উপজেলার প্রায় ৩২ টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বিহীন হাসপাতাল ব্যবসা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ বেডের মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতাল, ৪০ বেডের ইউনিক হাসপাতাল, ৬০ বেডের জম জম হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ এবং ৬ টি হাসপাতাল রয়েছে ১০ বেডের তা হলো মালুমঘাট মা-মণি হাসপাতাল, মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল, চকরিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল, সেন্ট্রার হাসপাতাল, সূর্যের হাসি ক্লিনিক এছাড়াও প্রায় ২৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নাম দিয়ে অনুমোদনহীন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার ৫টি হাসপাতাল যার মধ্যে ২টি হাসপাতাল ১০ বেডের তা হল প্যান ইসলামীক হাসপাতাল ও নুর হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামে পরিবেশ অনুমোদন বিহীন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাকী ৩টি শুধুমাত্র সাইনবোর্ড দিয়ে হাসপাতালের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি সুত্র জানান। এদিকে রামু উপজেলায় খবর নিয়ে জানা যায়, ৬ টি হাসপাতালের মধ্যে ২টি ১০ বেডের হাসপাতাল, তা হলো সূর্যের হাসি ক্লিনিক ও হোপ হাসপাতাল। বাকী ৪টি পপুলার প্যাথলজি, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, সী-সাইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, হেল্থ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও গর্জনিয়া ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার । প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স এর মাধ্যমে তাদের হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উখিয়া উপজেলার ১টি মাত্র ২০ বেডের হাসপাতাল আছে, তাও পরিবেশ ছাড়পত্র বিহীন তা হলো অরজিন হাসপাতাল। টেকনাফ উপজেলায় ৮টি হাসপাতালও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার থাকলেও তারাও পরিবেশ ছাড়পত্র পায়নি বলে জানা যায়। মহেশখালী উপজেলার ৬টি ডায়াগনষ্টিক ও ডেন্টার সেন্টার থাকলেও তাদেরও পরিবেশ ছাড়পত্র নাই। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাফ জানান-কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন নামে বে-নামে হাসপাতাল, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, প্যাথলজি সেন্টার সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের সবার তথ্য আমাদের কাছে আছে। একটি প্রতিষ্ঠান কে এরই মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকী জেলার যতটি হাসপাতাল, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিক রয়েছে একটিরওপরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। আমরা তাদের পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য চিঠি প্রেরণ করেছি। যদি তারা কোন ধরণের সাড়া না দেন তাহলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে আমরা অভিযানে নামব এবং যাদের পরিবেশ ছাড়পত্র থাকবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। , জেলায় যে সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার যাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই তাদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন-আমাদের সিভিল সার্জন কক্সবাজার কর্তৃক অনুমোদন রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র’র প্রয়োজন নেই। এ ব্যপারে সূর্যের হাসি ক্লিনিক এর প্রজেক্ট ম্যানেজার জনাব নজরুল ইসলাম জানান-আমাদের ছাড়পত্র প্রয়োজন নেই, আমাদের পৌরসভার সাথে চুক্তি হয়েছে। প্রতিদিনের বর্জ্য পৌরসভা কর্তৃক নিয়োগকৃত ক্লিনাররা এসে নিয়ে যাবে। বিনিময়ে বাৎসরিক তাদের আমরা একটি মোটা অংকর টাকা দিই। সাধারণ জনগণ মনে করেন যদি পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ একটু নজরদারী করে, তাহলে সরকারের রাজস্ব খাত সমৃদ্ধ হবে এবং নোংরা ও অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে সাধারণ জনগন রক্ষা পাবে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে শেষে সিভিল সার্জন কর্মকর্তা আবদুস ছালাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি অফিসের বাহিরে বলে জানান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.