মোঃ নেজাম উদ্দিন,কক্সবাজার
ককক্সবাজরের রামু কাউয়ারখোপের মনিরঝিল এলাকার হতভাগী জুবাইদা আক্তারের স্বামী হত্যার বিচার মেলেনি এখনো।মামলার ৫ মাসেও কোন অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার দিন দুই আসামীকে জনতা ধরে পুলিশের হাতে দেওয়া তারা এখন কারাগারে। তবে আরো ৫জন এজাহারভুক্ত আসামী প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে বলে জানা গেছে।বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকী ধামকী দিচ্ছে এমনটি খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী জুবাইদা।
জুবাইদা আক্তার বয়স মাত্র ২০ বছর। সুন্দর মলিন চেহারা কৈশোর পার হয়ে সবে যৌবনে পা দিয়েছে। জুবাইদার বাবা মা খুব ধুমধামের সাথে বিয়ে দেয় গত বছর ১৩ জুলাই কাউয়ারখোপের মনিরঝিল ১নং ওয়ার্ড়ের মৃত আব্দুল হাসিমের পুত্র গোলাম কাদের (২৮) এর সাথে। বিয়ের দিন দুই গ্রামের মানুষকে আতিথিয়তায় কমতি ছিলনা। সেদিন যারা বিয়েতে এসেছে তারাও বিয়ের অনুষ্টান দেখে বেশ খুশি হয়েছিল, এবং তাদের দাম্পত্য জীবন যেন সুখের হয় সেই দোয়া করেছিল সবাই। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার সুন্দরভাবে চলছিল। নবদম্পতির এই সুখের সংসার শুরু করতে না করতেই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৪ মার্চ গোলাম কাদেরকে তার আপন ভাইয়েরা, আপন মামা জেবুল হোসেন ও চাচাতো মামা সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ হোসনসহ এলাকার কিছু কুটক্রী মহল তার জমি দখল ভাগিয়ে নিতে নির্মমভাবে পিঠিয়ে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে ।
স্বামীর বিচার চাইতে নিহত গোলাম কাদের এর স্ত্রী জুবাইদা আক্তার বাদী হয়ে গত ২৬ মার্চ রামু থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৪৫/১১৯
ঘটনার দিন নিহত গোলাম কাদের এর আপন দুই ভাই আবদুর রহিম (২৫) ও নবী হোসন (২২) কে জনতা পুলিশের হাতে তুলে দিলেও এর পর আর কোন আসামী গ্রেফতার করা হয়নি বলে মামলার বাদী জুবাইদা আক্তার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
বিধবা জুবাইদা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তারা এখন প্রকাশ্যে বাজারে, মহল্লায় ঘুরাফেরা করছে । আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকী দিয়ে আসছে। যদি আমি মামলা তুলে না নিই তা হলে আমাকেও প্রানে মেরে ফেলবে বলে হুমকী দিচ্ছে। এমন অবস্থায় আমি প্রান সংশয়ে আছি। তারা আমাকে যে কোন মুহুর্তে হামলা করতে পারে। তাই আমি আইনের আশ্রয় চাই।
জানা গেছে, মামলা থেকে কয়েকজন আসামীকে বাদ দিতে একটি চক্র কাজ করছে। এবং তারা বেশ বড় অংকের টাকার বিনিময়ে এই মামলা থেকে রেহায় পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর ইমাম হোসেন প্রতিবেদককে টেলিফোনে জানান, মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। এই মামলায় দুইজন গ্রেফতার হয়েছে বাকিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন , এটি স্পষ্ট হয়েছে গোলাম কাদেরকে তার আপন ভাই একই পিতার পুত্র ওসমান গনি(৪০),আবদুর রহমান(৩০) আবদুর রহিম (২৫) নবী হোসেন (২২)সহ আরো কিছু তাদেও সহযোগীদের নিয়ে হত্যা করতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে তা উঠে আসবে বলে মনে করছি। হত্যা মামলা আসামীদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছেনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি করোনা আক্রান্ত ছিলাম বিধায় একটু দেরি হয়েছে তবে এখন এই হত্যা মামলা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
এদিকে মামলার ব্যাপারে কক্সবাজার সদর সার্কেল আদিবুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের জন্য আমরা আসামী ধরার ব্যাপারটি শীতল রেখেছিলাম। কারণ এতে পুরো থানায় করোনা সংক্রমন হওয়ার সম্ভবনা ছিল। তবে এখন যখন একটু শীথিল হয়েছে আমরা এই মামলাটি গুরুতাব সহকারে দেখবো।
মনিরঝিল ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জহির উদ্দীন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সহোদর ভাইদের মধ্যে এভাবে খুনের ঘটনায় পুরো গ্রামবাসী হতভাগ। এর হত্যার বিচার অচিরেই আমরা এলাকাবাসি চাই।
প্রসংগত গত ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনিরঝিল গ্রামের মৃত, আবদুর রহমান,আবদুর রহিম, নবী হোসেন ও তার মামাদের নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পার্র্শ্বতী সোনাইছড়ি নন্নাকাটা গ্রামে তাদের সহোদর ভাই গোলাম কাদের (২৮) উপর হামলা করলে সে গুরুতর আহত হয়।
পরে হামলাকারী সহোদর ভাইয়েরা গোলাম কাদেরকে মুমুর্ষ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় তার মৃত্যু হলে লাশটি হাসপাতালে রেখেই তারা সেখান থেকে সরে পড়ে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গোলাম কাদেরের এক ভাই নবী হোসন পাশ্ববর্তী পুর্ব রাজারাকুল গ্রামে ঘোরাফেরা করলে গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তার স্বীকারোক্তিমতে ২৫ মার্চ বুধবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
গ্রামবাসী গোলাম কাদের খুনের ঘটনায় সম্পৃক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.