রামুতে জমজ শিশুর দুগ্ধজাত খাবার পৌছিয়ে দিলেন যুবলীগ নেতা

সোয়েব সাঈদ ॥
রামুর দূর্গম এলাকায় খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারে জমজ শিশুর জন্য দুগ্ধজাত খাবার নিয়ে গেলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ। যুবলীগ নেতার এ মানবিক প্রয়াসে স্বস্তির হাসি ফুটেছে শিশু দুটির মায়ের মুখে।

জানা গেছে, ঢাকার একটি পোষাক কারখানায় কাজ করেন, রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বোমাংখিল হিন্দু পাড়ার এক যুবক। সম্প্রতি ওই কারখানাটি করোনা পরিস্থিতির কারনে বন্ধ হওয়ায় বেতন না পেয়ে নিজে যেমন বেকায়দায় পড়েছেন তেমনি পরিবারেও টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। ফলে দু’জমজ সন্তান নিয়ে অভাবে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন ওই যুবকের স্ত্রী।

নিরুপায় হয়ে ওই যুবক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রামুর সাংবাদিক সোয়েব সাঈদকে মুঠোফোনে কল করে তার পরিবারের খাদ্য সংকটের কথা তুলে ধরেন। যুবকটি জানায় বিগত মাসের বেতন এখনো পাননি। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কবে বেতন পাবেন তাও জানেন না। তিনি টাকা পাঠাতে না পারায় কয়েকদিন ধওে তার স্ত্রী-সন্তান খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবেশীদেরও আর সহায়তা পাচ্ছিলো না। কোন মতে মায়ের খাবার জুটলেও সন্তানদের দুগ্ধজাত খাবার (ল্যাকটোজেন-২) কেনার সাধ্য কোনমতেই ছিলো তাদের। সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ পরদিন (সোমবার) সকালে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ^াস দেন।

সকালে সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ রামু চৌমুহনী স্টেশনে সংবাদপত্র বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়ার সাথে এ বিষয়ে আলাপ শুরু করেন। এসময় সেখানে থাকা গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ ওই শিশুদের দুগ্ধজাত খাবার দেয়ার জন্য সানন্দে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি তাৎক্ষণিক ওই শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ওই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে নিজের বাড়িতে শিশুদের খাবাবের ২টি প্যাকেট হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন মা। পরে ঢাকা থেকে শিশুদের বাবা সাংবাদিক সোয়েব সাঈদকে মুঠোফোনে কল করে দূঃসময়ে শিশুদের খাবার দিয়ে সহায়তা করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারনে ওই পরিবারটি বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য সংকটের কথা তাকে অনেক বেশী মর্মাহত করেছে। তাই তিনি বিষয়টি জানার পর খাবার নিয়ে দ্রুত ওই বাড়িতে যান। সেখানে শিশুদের মায়ের মুখের হাসি দেখে তার মনটি ভরে গেছে। তিনি বলেন সব মানুষেরই বিপদ-আপদ থাকতে পারে। এজন্য সবার উচিত বিপদে এগিয়ে আসা।

রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া জানান, গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন নেতা। তাঁর এ মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আরো জানান, রামুর সকল যুবলীগ নেতাকর্মীদের করোনা পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে জনগণকে সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, তিনি গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ কর্তৃক ২ জমজ শিশুর পরিবারকে সহায়তার বিষয়টি শুনেছেন। তাঁর এ উদ্যোগ সবার জন্য অনুকরণীয়। এভাবে রাজনৈতিক অঙ্গণের সকল নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকতে হবে। কেবল যুবলীগ নয়, তিনি ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.