মেজর সিনহা হত্যা মামলার ৪ আসামীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

ইমাম খাইর, ওয়ান নিউজ
সেনা বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়া মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার ৪ আসামীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগষ্ট) বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌঁছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)।

নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে বেলা আড়াইটা থেকে পুলিশের কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপ অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ৪ আসামীকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে মেজর সিনহা হত্যা মামলার রিমান্ড সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা কারাগারে পৌঁছেছে। ফলে কারাফটকে র‌্যাব সদস্যরা ৪ জন আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

৭দিনের রিমান্ডের আদেশপ্রাপ্ত ৩ আসামীকে রবিবার র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানী শেষে ওসি প্রদীপ কুমার দাস, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতের ৭ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

একই সঙ্গে কারাগারে পাঠানো ৪ আসামীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বিচারক।

খুনের ঘটনায় মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে ৫ আগষ্ট আদালতে মামলা করেন।

মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাস, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামী করা হয়।

এদিকে, রিমান্ডের আদেশ পাওয়া ৩ আসামীকে এখনো তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়া হয়নি। ৪ জনের প্রত্যেককে ২ দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেই রিমান্ড মঞ্জুর করা ৩ আসামীকে কারাগার থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নিয়ে রিমান্ড করা হবে।

গত ৩১ জুলাই টেকনাফ বাহারছরা চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে খুন হন মেজর সিনহা।

এ ঘটনায় তার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে ৫ আগস্ট টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বরখাস্ত হওয়া প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ৯জনকে আসামী করা হয়।

যার টেকনাফ থানার মামলা নম্বর : ৯/২০২০, সিআর মামলা নম্বর : ৯৪/২০।

বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে র‍্যাবকে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তারা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিবে।

ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্ত্বা বিভাগ। ৪ আগষ্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে তদন্ত কমিটি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.