বাংলাদেশের পর্যটনের ত্রিরত্ন

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া

“বিশ্ব কবির ‘সোনার বাংলা’, নজরুলের ‘বাংলাদেশ’, জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ রূপের যে তার নেই কো শেষ, বাংলাদেশ।” আবহমানকাল থেকে বাংলার বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক এইভাবেই বাংলার রূপ বৈচিত্র্যের বর্ণনা করে আসছেন। আসলেই এই দেশের প্রতিটি অঞ্চলের কিছু না কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা যুগে যুগে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের সাহিত্যে উপজীব্য হয়ে উঠেছে। তবে শুধু কবি সাহিত্যিকই নয় এই দেশের রূপ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বারে বারে মুগ্ধ করেছে হাজারো পর্যটককে। এই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পর্যটনে আকর্ষণ করার কোন না কোন উপকরণ করেই গেছে যা হয়তো অনেক বছর থেকেই রয়ে গেছে মানুষের দৃষ্টির বাহিরে। এমনও দুর্গম স্থান রয়েছে যেখানে মানুষের পদচারণা খুব বেশি দিনের নয়। ঠিক এমনই এক পর্যটনের অপার সম্ভাবনার নাম বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল যা পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে অধিক পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম মূলত তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকা, যা তিনটি জেলা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত। চট্টগ্রাম বিভাগের এই এলাকা পাহাড় ও উপত্যকায় পূর্ণ বলে এর নামকরণ হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। দেশের একটা বিশাল অংশের বনভূমি এই অঞ্চল জুড়ে আছে। পর্যটনের একটি প্রধান উপজীব্য হল এই পাহাড় যা যুগে যুগে মানুষকে আকর্ষণ করে গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের মূল উপকরণ হল পাহাড়ে ঘেরা সবুজ প্রকৃতি যা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পর্যটকদের কাছে ধরা দেয়। এটি যেন ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতির রূপ বদলানোর খেলা। এখানে শীতে যেমন এক রূপ ধরা দেয় ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ঠিক তেমনি বর্ষায় অন্য এক রূপ হাজির হয়। শীতে পাহাড় কুয়াশা আর মেঘের চাদরে যেমন ডাকা থাকে তার সাথে থাকে সোনালী রোদের মিষ্টি আভা। আবার বর্ষায় চারদিক জেগে উঠে সবুজের সমারহ। এই সময় প্রকৃতি ফিরে পায় আর নতুন যৌবন। বর্ষায় মূলত এ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিস্টদের পদচারনা সবচেয়ে বেশি থাকে এই পার্বত্য অঞ্চলে। তখন এখানে ঝর্না, ঝিরি কিংবা নদীপথগুলো নতুন রূপে সেজে উঠে যা দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটক এইখানে ভিড় করে। এর সাথে আছে পাহাড়ের মানুষের ভিন্নধর্মী জীবনাচরন যা আমাদের চেয়ে অনেকটা আলাদা। তাদের সংস্কৃতি, জীবনধারণ সবকিছু আমাদের থেকে ভিন্ন যা সাংস্কৃতিক পর্যটনের একটি অংশ।

দেশের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন জেলা। পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, ঝর্না ও গাছপালা বেষ্টিত মনোরম দৃশ্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। যার সবই পর্যটন শিল্পের জন্য এক অনন্য উপাদান। এই তিন জেলার প্রতিটি জেলায় কিছু না কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ ছড়িয়ে আছে। যার একটি পর্যটন আকর্ষণ অন্যটি থেকে ভিন্ন।

বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি হলো বান্দরবান। এটি বাংলাদেশের পাহাড়ী কন্যা নামে খ্যাত। ভৌগোলিক কারণেই বান্দরবানে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। পাহাড়, নদী ও ঝর্নার মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান জেলা। এই জেলার দেশের সুউচ্চ পাহাড়সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা এক কথায় অনন্য। বান্দরবান জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে বগা লেক, কেওকারাডং, মেঘলা, নীলগিরি, নীলাচল, নাফাকুম, স্বর্ণমন্দিরসহ আরো অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৭ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে লামা উপজেলার অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উপরে বাংলাদেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরির অবস্থান। জায়গাটিকে অনেকে ‘বাংলাদেশের দার্জিলিং’ বলেন। যেখানে পাহাড় আর মেঘের মিতালি চলে দিনরাত। সুপরিকল্পিতভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বান্দরবনের স্বর্ণমন্দির উপাসনালয়টি বাংলাদেশের একটি অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই ‘বৌদ্ধ ধাতু জাদী’ স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উল্লেখযোগ্য একটি উপাসনালয়। যা বান্দরবন শহর থেকে ৪ কি.মি. উত্তরে বালাঘাট নামক এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এর নির্মাণশৈলী মায়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে তৈরি।

স্বর্ণমন্দির উপাসনালয়টি বাংলাদেশের ধর্মীয় পর্যটনের এক অনন্য স্থান রূপে বিবেচিত। বান্দরবন জেলা শহরে প্রবেশের ৭ কি.মি. আগে মেঘলা পর্যটন এলাকা। এটি সুন্দর কিছু উঁচু-নিচু পাহাড়বেষ্টিত একটি লেক ঘিরে গড়ে উঠেছে। সবুজ গাছ আর লেকের স্বচ্ছ পানি পর্যটককে প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নেয় প্রতিনিয়ত। পানিতে যেমন রয়েছে প্যাডেল বোট, তেমনি ডাঙ্গায় রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। রয়েছে রোপওয়ে কার। এখানে সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দেখতে পাবেন বান্দরবানের নয়নাভিরাম দৃশ্য। তাছাড়া নীলাচল বান্দরবন শহর হতে ১০ কি.মি. দক্ষিণে ১৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি পর্বত শীর্ষ। যেখান থেকে নীল আকাশ যেন তার নীল আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে ভূমির সবুজ জমিনে। যে দিকে দুচোখ যায় অবারিত সবুজ ও নীল আকাশের হাতছানি। মুগ্ধতায় ভরে উঠবে মন-প্রাণ।

এছাড়া বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে বগালেক পরিচিত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বগালেক। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বগালেক। এ পানি দেখতে প্রায় নীল রঙের। এ লেকের পাশে বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র উপজাতীয় বম ও খুমী সম্প্রদায়। অদ্ভুদ সুন্দর এই নীল রঙ্গের লেকের সঠিক গভীরতা বের করা যায়নি এখনও পর্যন্ত। স্থানীয়ভাবে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলায় রয়েছে পর্যটনের আরো অনেক নিদর্শন। ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি ৩৩৮ কি.মি. দূরে। কাপ্তাইয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সাজেক ভ্যালী, ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন লেক ও ঝর্না উল্লেখ্যযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালি । বর্তমানে সাজেকে ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্য প্রায় সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সারাবছরই সাজেক যাওয়া যায়। সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।

১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট। চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করবেই। এটি এমনই এক আশ্চর্যজনক স্থান যেখান থেকে একই দিনে প্রকৃতির তিন রূপের সান্নিধ্যে পর্যটকরা চমৎকৃত হয়। কখনোবা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ি খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ স্থান। তাই সাজেকের রূপের কোন তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। তাই বছরের যেই কোন সময় সাজেক ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময়।

রাঙ্গামাটির আরেকটি প্রধান আকর্ষণ হলো ঝুলন্ত সেতু। সাধারণত রাঙামাটি গিয়ে এই ঝুলন্ত সেতুটি না দেখে কেউ ফেরত আসেন না। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের একাংশে ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ব্রিজটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্পট। নয়নাভিরাম এই ঝুলন্ত সেতুটি দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি পর্যটকদের মধ্যে এনে দেবে ভিন্ন আমেজ। এখানে দাঁড়িয়েই কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে পারবে পর্যটকরা। কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ হতে বাধ্য। ওপারেই রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। তাই আধিবাসীদের জীবনযাত্রা অবলোকন করা যায় এইখান থেকে খুব সহজেই।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগরাছড়ি জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। অসংখ্য ঝর্ণা আর বুনো পাহাড় মিলিয়ে এক জানা-অজানা রহস্যের নাম খাগড়াছড়ি। যদিও আমাদের পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে পর্যটনের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে এই জেলাটি। কিন্তু এই জেলার রয়েছে অফুরন্ত পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে খাগড়াছড়ি। প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে খাগড়াছড়িকে। স্বতন্ত্র করেছে বিভিন্ন অনন্য বৈশিষ্ট্যে। খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আলুটিলা পাহাড় ও গুহা, রিছাং ঝর্না, দেবতা পুকুরসহ আরো অন্যান্য স্থান উল্লেখযোগ্য।

সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যময় অহংকার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ আলুটিলা। জেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কি.মি. দূরে মাটিরাঙ্গা উপজেলাতে এটি অবস্থিত। আলুটিলা পাহাড় থেকে খাগড়াছড়ি শহরের পুরো চিত্র দেখা যাবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য টিলায় একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও আছে। আর আলুটিলা থকে আরো প্রায় ২ কি.মি. দূরে অবস্থান বিছাং ঝর্ণা। বর্ষায় এটি যেন চির যৌবনা হয়ে উঠে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১০০০ ফিট উপরে পাহাড়ের চূড়ার মধ্যে অবস্থিত একটি পুকুর যা স্থানীয়ভাবে দেবতা পুকুর নামে পরিচিত। পুকুরের আকার দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০০ ফুট এবং প্রস্থে প্রায় ৬০০ ফুট। এটি খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি রোডে নুনছড়ি ত্রিপুরা গ্রামে অবস্থিত। স্বচ্ছ জলস্রোতে স্থির পাথর মোহিত করে, প্রকৃতির অপূর্ব সাজে মুগ্ধতায় শিহরিত হয় মন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পাহাড়কে কেন্দ্র করে তাদের পর্যটন শিল্পকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। আমরা যদি আমাদের পাশের দেশ ভারত কিংবা নেপালের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে তা সহজেই প্রতীয়মান হয়। এইসকল দেশ পর্যটন বিকাশের জন্য পাহাড়ে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেছে। তারা তৈরী করেছে বিভিন্ন স্থাপনা যা পর্যটকদের জন্য বিনোদনের অভাব পূরন করে। কিন্তু আমাদের দেশে পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটনকে কেন্দ্র করে খুব একটা উন্নয়ন এখনো চোখে পড়ছে না। এই সকল এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পর্যটকদের বিনোদনের ব্যবস্থা অপ্রতুল যা দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণে এখনো মূল বাঁধা হিসাবে কাজ করছে। তবে এইসকল অঞ্চলে উন্নয়ন করতে হলে এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে তার পরিকল্পনা করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু কাল আগেও নিরাপত্তা একটি বড় সমস্যা ছিল যা এখন অনেকটা দূর হয়েছে। এখন সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এইখানকার পর্যটনের প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন কারণ পাহাড়ের সাথে মিশে আছে এইখানে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা। তাই সুষ্ঠু পর্যটন গড়ে তুলতে হলে এইসকল মানুষকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এতে করে স্থানীয় মানুষের যেমন কর্মস্থান হবে সাথে সাথে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে। তাদের জন্য অংশগ্রহণমূলক পর্যটনের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা সকল স্তরে তাদের মতামত তুলে ধরতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে নিয়ে এখনো কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এই তিন জেলাকে নিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে আসবে। একই সাথে এই অঞ্চলে ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে পাহাড়ের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। আর সকল প্রকার উন্নয়নে অবশ্যই পরিবেশকে মাথায় রাখতে হবে। একমাত্র সুষ্ঠু উন্নয়নের ফলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পর্যটনের উন্নয়নের সাথে সাথে সারা দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্রঃ জাগো নিউজ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.