পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে ১ জন নিহত হয়েছে। এ সময় অপর ১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয়রা এ ২ জনকে উদ্ধার করে পেকুয়া নুর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় অবস্থার গুরুতর হয়। এদের চমেক হাসপাতালে রেফার করে। পথিমধ্যে সড়কে ১ জনের মৃত্যু হয়। অপরজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশংকাজনক। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থান থেকে ধাওয়া দিয়ে ওই ঘটনার প্রধান নায়ক সহ তার অপর ৭ সহযোগীকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশকে সোপর্দ করে। ২৯ মে দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জের ধরে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে গুলি ছুড়ে হতাহতের খবরে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল হাসেম(১৯)। তিনি পূর্ব বাইম্যাখালী এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম শাহজাহান(৩২)। তিনি নিহত আবুল হাসেমের বড় ভাই। যুবলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার প্রভাবশালী সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঘটনার মুল হোতা ইয়াসিন (২৬) কে জনগন ধরে ফেলে। পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তার স্বীকারোক্তিমতে ৩০ মে বিকেলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি বাড়ি থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। আটকৃতরা হলেন ইয়াসিন(২৬)। তিনি সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী উত্তরপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর পুত্র। অপর আটককৃতরা হলেন পূর্ব বাইম্যাখালী গ্রামের কালু ফকিরের পুত্র মোর্শেদ(২২), একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে কায়ুম(১৯), চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মছন্নাকাটা গ্রামের ছৈয়দুল করিমের ছেলে তোফাইল(২০), বাইম্যাখালী এলাকার মনুর পুত্র আনসার(১৯), একই এলাকার নুরুজ্জামানের পুত্র আবুল শামা(১৮), পূর্ব গোঁয়াখালীর মোহাম্মদ আলীর পুত্র সাদ্দাম(১৯) ও তার ভাই সাগর(২২)। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ মর্গে প্রেরন করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত আবুল হাসেমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌছেনি। ৩০ মে রাত ১০ টার দিকে নামাজে জানাজার সময় নির্ধারন করেছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন রাতে আবুল হাসেম ও তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা শাহজাহান ওয়ার্কশপ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত ১ টার দিকে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা দুবৃর্ত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় তারা ২ ভাই বাইম্যাখালী শাহজমিরিয়া ইসলামীয়া তালিমুল কোরআন মাদ্রাসায় ঢুকে প্রান বাঁচানোর চেষ্টা চালায়। মাদ্রাসার প্রধান ফটক আটকানো ছিল। এ সময় দুবৃর্ত্তদের ছোড়া গুলিতে শাহজাহান ও আবুল হাসেম গুলিবিদ্ধ হয়। মাদ্রাসার গেইটে প্রচন্ড রক্তক্ষরন হয়। স্থানীয়রা ২ ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় এ্যাম্বুল্যান্স যোগে এদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে বাঁশখালী উপজেলার উত্তর প্রান্তে পৌছলে সেখানে আবুল হাসেমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানায়, ইয়াসিন ও শাহজাহানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি গৃহপালিত ছাগল চুরি হয়। এ নিয়ে ছাগলের মালিক শাহজাহান বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় ইয়াসিনসহ ওই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি দেয়। ইয়াসিন এতে ক্ষিপ্ত হন। ঘটনার ১ দিন আগে এলাকায় এসে হাকাবকাসহ অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে শাহজাহানকে আল্টিমেটাম দেয়। তারা ১ দিনের সময় দেয় অভিযোগ উঠিয়ে নিতে। এ সময় শাহজাহান তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শাহজাহানের পরিবার ও গ্রামবাসী জানায় এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসিন সহ তার অনুগত সন্ত্রাসীরা ওই দিন রাতে ২ ভাইকে গুলি ছোড়ে। এতে নিহত ও হতাহত হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে স্থানীয়রা ২ জনকে সন্দেহ ভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশে দেয়। পরদিন ৩০ মে ইয়াসিন সহ ৬ জনকে সদর ইউনিয়নের সিরাদিয়া গ্রাম থেকে জনগন ধাওয়া দিয়ে আটক করে। এ সময় পুলিশে সোপর্দ করে। স্থানীয়রা জানায়, ওই দিন রাতে ঘটনা সংঘটিত করে ইয়াসিন সহ ওই ৬ জন সিরাদিয়ার একটি বাড়িতে অবস্থান নেয়। তারা সকালে মাতামুহুরী নদী পারাপার হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় জনগন এদের ঘিরে ফেলে। ধাওয়া দিয়ে আটক করে। পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানায়, পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। ২ টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত পুলিশ পরে জানাবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.