ঝিলংজায় শ্রম অভিবাসনের সংশ্লিষ্ঠ স্টেকহোল্ডারদের চিহ্নিতকরণ ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক পরামর্শ সভা  অনুষ্ঠিত

নেজাম উদ্দিনঃ

স্থানীয় প্রতিনিধি সুশীল সমাজ, স্থানীয় গ্রিভেন্স ম্যানেজম্যান্ট কমিটি,  যুব স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রিক্রুটিং এজেন্সি, সমাজকর্মী, ও অভিজ্ঞ প্রবাসীদের অংশগ্রহণে কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মায়াবী কমিউনিটি সেন্টারে  এক পরামর্শ সভার অায়োজন করে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইপসা। ১৫ ই মার্চ  সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মসভায় ইপসা ও প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচী তুলে ধরেন ইপসা ফেয়ারার লেবার মাইগ্রেশন প্রকল্পের এসোসিয়েট রিসার্স এন্ড লার্নিং অফিসার মুহাম্মদ অাবু তাহের। পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণকারীরা উম্মুক্ত অালোচনার মাধ্যমে শ্রম অভিবাসনের সাথে সংশ্লিষ্ঠ স্টেকহোল্ডারদের চিহ্নিত করেন এবং উক্ত স্টেকহোল্ডারদের  মোবিলাইজেশনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। নিরাপদ অভিবাসনের সঠিক ধাপগুলো “বাহাদুর যাবে বহুদূর” স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। বিদেশ ফেরত এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও অভিবাসন বিষয়ক অভিযোগের নিষ্পত্তির বিভিন্ন কার্যক্রমের বিভিন্ন বাস্তব উদহারন সবার সামনে তুলে ধরেন উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি ইপসার সিনিয়র কর্মকর্তা যীশু বড়ুয়া । প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন ‘ ট্রেনিং ছাড়া বিদেশ যাবার কারণে অামাদের অনেক ভাই – বোনেরা প্রবাসে মানবতর জীবন পাত করছে। তিনি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির কাজের ধরনের উদাহরণ তুলে ধরেন। অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বেতনের তুলনামূলক অালোচনা করেন। তিনি অারো বলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কক্সবাজারে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।যা সম্পূর্ণ  ফ্রি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সমাজসেবা অফিসার মনজুর মোরশেদ ও ঝিলংজা ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগের সভাপতি সরওয়ার অালম চৌধুরী। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মনজুর মোর্শেদ বলেন মাল্টি স্টেকহোল্ডারদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতামূলক কার্যক্রমে সমাজসেবা অফিসে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ইপসা’র কর্মকান্ডের সাথে সমাজ সেবা অফিস অারো সম্পৃক্ত হবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উম্মোক্ত অালোচনায় অংশগ্রহন করে কক্সবাজার অাজিজিয়া ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক মুহাম্মদ হুসাইন বলেন – বর্তমানে ট্রাভেল এজেন্সি সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে থাকে। তাই ভোগান্তির মাত্রা অনেকখানি কমে গেছে। তিনি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপদ অভিবাসনরের সঠিক ধাপসমুহ বর্ননা করেন। উম্মোক্ত অালোচনায় অংশগ্রহণ করে অাইন ও সহায়তা কেন্দ্রের কর্মকর্তা অাশীষ রঞ্জন দে বলেন স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করণের সময় একজন অাইনজীবী রাখা দরকার। যিনি অভিবাসন ও বিভিন্ন ধরনের অাইনের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। যাতে কোন রকম তথ্য গ্যাপের সমস্যা সৃষ্টি না হয়। পাল্স বাংলাদেশ কক্সবাজার শাখার ম্যানেজার মমতাজ বেগম বলেন অামাদের দেশের অনেক নারী দালালের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন দেশে অাটকা পড়ে অাছে। তিনি প্রতারণাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক অাইন তৈরি করার জন্য সরকারের নিকট অাবেদন জানান।এছাড়াও সাংবাদিক মুহাম্মদ অাবুল খায়ের, মুহাম্মদ অারফাতুল মজিদ ও মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নাগরিক অধিকার ও দালালদের প্রতারণা নিয়ে বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন।তারা অারো বলেন এনজিও হিসেবে ইপসার প্রকল্পের মেয়াদ শেষও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অামাদের সামাজিক দায়িত্ব হলো নিরাপদ অভিবাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। মুহাম্মদ রাশেদ নামক একজন এনজিও কর্মী রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সির ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি অারো বলেন পুলিশ ভেরিপেকশনের মাধ্যমেও অনেক মানুষ পাসপোর্ট পেতে সমস্যা হয়। তিনি এর প্রতিকার চান।


অনুষ্ঠানের শেষপ্রান্তে সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ অভিবাসনের সঠিক ধাপগুলো সমাজের সর্বত্র পৌছে দেবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।   ইপসা ফেয়ারার লেবার মাইগ্রেশন প্রকল্পের লক্ষ্য হলো শ্রম অভিবাসনের সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহীতা বৃদ্ধি করা।

উল্লেখ্য ফেয়ারার লেবার মাইগ্রেশন প্রকল্পটির কারিগরী ও অার্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে প্রকাশ,  ব্রিটিশ কাউন্সিল।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.