ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী রাইসা এখন ছাত্রলীগের বড় নেত্রী!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে সুমি আক্তার রাইসার নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু রাইসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ছিলেন।

এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেনোনা ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এই নেত্রী প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন। যেমন-সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে না, হতে দেওয়া যাবে না। পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে চাকসু ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন এই নেত্রী। যে সব ছবি এখন ফেইসবুকে ভাইরাল!

কিন্তু আদর্শের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও বামধারার এসব বির্তকিত নারী-নেত্রীরা রাতারাতি পক্ষ বদলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাগিয়ে নিয়েছেন।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্ররা দীর্ঘদিন সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েও কি করে ‘শিক্ষা শান্তি প্রগতির সারথী’ ছাত্রলীগে ঠাঁই করে নিলেন সে প্রশ্ন এখন তৃণমূলে! অনুমোদিত দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ২৭১ সদস্যের বিরল কমিটিতে রাইসার নাম দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কমিটি থেকে এসব ‘বিতর্কিতদের’ বাদ দেওয়া এবং ‘যোগ্যদের’ পদে বসানোর।এসব কারণে সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে পদ পেয়েও সন্তুষ্ট নন অনেকে।

বিতর্কিতদের জায়গা হওয়ার পেছনে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ সূত্র জানান, ঘোষিত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছাড়া বিতর্কিতরা কমিটিতে কোনোভাবেই জায়গা পাননি। এখানে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী সুমি আক্তার রাইসা নিজেকে বামধারা কলংক মুক্ত করতে কৌশলে ফেইসবুকে নাম পরিবর্তিত করে রাখলেন রাইসা তাসনিম সুমি। গত বছরের ১২ মার্চ চবিতে সরকার বিরোধী শ্লোগানে যার কন্ঠ উদিত হত। তিনি ফেইসবুকে লিখে রাখলেন এখন ‘মুজিববাদে কট্টর’। অসমর্থিত সূত্র বলছে, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এই রাইসা, সুন্দরবন রক্ষায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও এখন নাকি তিনি সবুজ পরিবেশ আন্দোলন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক!

তথ্যমতে আরো জানা যায়, সুমি আক্তার রাইসার বাড়ি চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী। তিনি ২০১১ সালে গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তী চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে সিইউতে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তিনি ছাত্রাবস্থার শুরুতেই ছাত্রদল ও পরে প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং ছাত্র ইউনিয়নে জড়িয়ে পড়েন।

দেশের সর্বাধিক পঠিত বাংলা নিউজের নিচের লিঙ্কটি পড়লে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

https://m.banglanews24.com/cat/news/bd/550138.details

ছাত্র ইউনিয়নের কথা স্বীকার করে ঘোষিত নতুন কমিটির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সুমি আকতার রাইসা জানান, এসব সম্পুর্ণ মিথ্যা ও গুজব। যে ছবি ছড়ানো হচ্ছে সে সব আমার নয়। তবে চবিতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর আমার এক আপু আমাকে ছাত্র ইউনিয়নের মিটিং-মিছিলে নিয়ে গেছে প্রায় ৬ মাস। কিন্তু যখনই বুঝতে পারি এটি রাজনৈতিক দল। তখন থেকেই আমি আর যায়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমি জেনেছি রাইসা এক সময় তার পরিচিত বড় বোনের সাথে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তারপরেও অভিযোগ যেহেতু আসল; আমরা কেন্দ্রে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের বলেন, প্রথম বর্ষে থাকাবস্থায় তার এক বড় বোনের সাথে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডে রাইসা জড়িত ছিলেন। এটা সত্য, তবে এখন ছাত্রলীগ করেন। সে দীর্ঘদিন যাবত আমাদের দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন। ছাত্রলীগ করতে সহজে মেয়ে পাওয়া যায় না। অনেক কষ্ট করে ২/৩ জন মেয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তিনিও একজন।’

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন জানান, শিবির ক্যাডার, ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী, রেলের খালাসী, জুতার দোকানদার, নাশকতা মামলার আসামি, অছাত্র ও বিবাহিতদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে পুনরায় কমিটি ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি অর্জনকারী শিক্ষক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ড. মাসুম চৌধুরী বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত-বামপন্থী ও শিবিরের লোকজন আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে ঢুকছে। এরা এখন কিছু করবে না। ধীরে ধীরে এরা বলয় বাড়াবে। এরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের ভেতরে অন্তঃকলহ সৃষ্টি করবে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা এদের মূল উদ্দেশ্য। এসব অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে হলে কৌশলের সাথে মোকাবেলা করতে হবে।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.