ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার আরও সহজলভ্য করতে এবার ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি ফি, ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধেও ডিজিটাল পেমেন্টের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগদ টাকার ব্যবহার কমার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বাড়বে।
রাজধানীর বনানীতে একটি টং দোকানে গেলে দেখা যায়, লেনদেনের সুবিধার্থে ছোট্ট দোকানটিতেও আছে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা। বাংলা কিউআর স্ক্যান করে এক কাপ চায়ের দামও পরিশোধ করতে পারেন যেকোনো ক্রেতা।
বনানী কাঁচাবাজারের ভেতরেও একই চিত্র। মাছ, সবজি কিংবা নিত্যপণ্যের দোকানে ঝুলছে কিউআর কোড। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ জন ক্রেতা এ পদ্ধতিতে লেনদেন করেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ এবং সাধারণের নাগালে পৌঁছে দিতে এবার ব্যক্তি পর্যায়েও লেনদেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে একজন থেকে অন্যজনে লেনদেন চালু হবে পহেলা নভেম্বর। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়বে জিডিপির প্রকৃত আকার নির্ধারণেও তা সহায়ক হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি সহজ করতে বাংলা কিউআরের কয়েক ধাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোড স্ক্যান করে দেশে প্রায় ৪১ লাখ মার্চেন্ট লেনদেন করছেন। দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লেনদেনে প্রায় দেড়শো কোটি টাকা পরিশোধ করছেন তারা।
অন্যদিকে, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ জানায়, ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে দেশজুড়ে ৮ লাখেরও বেশি বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে তারা। পাশাপাশি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণসহ নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ডিজিটাল পেমেন্টে নাগরিকদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধ ও সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্সকেও কিউআরের আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিধি যত বাড়বে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়া ততই সহজ হবে। স্বচ্ছতা বাড়বে আর্থিক ব্যবস্থায়।
