চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে শতভাগ শিক্ষার্থী

জাহেদুল ইসলাম, লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
“স্কুলে ক্ষুধা মুক্ত থাকবো, মন দিয়ে লেখাপড়া করবো” এই গানকে সামনে রেখে লোহাগাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে চালু হয়েছে মিড-ডে মিল অর্থাৎ দুপুরের খাবার। লোহাগাড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের একটি চিত্র ভেসে ওঠেছে। তবে একটু ব্যতিক্রম উপজেলার চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮২৩ জন এবং দ্বিতীয় শিফটে ৪২১ জন শিক্ষার্থী মিড-ডে মিলে আওতাভুক্ত।
শনিবার চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৩০মিনিটে দ্বিতীয় শিফটের টিফিনের বিরতির সময় সকল শিক্ষার্থী পানির বোতল নিয়ে দৌঁড়ে টিউবওয়েল থেকে বোতলে পানি নিয়ে ক্লাসে টিফিন নিয়ে বসে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ প্রতিটি ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীদের তদারকি করছেন। শিক্ষার্থীরাও স্ব-আনন্দে খাবার খাচ্ছেন। কেউ খাচ্ছে ভাত, কেউ খাচ্ছে ডিম. রুটি, আবার কেউ খাচ্ছে ফল-ফ্রুট। খাবার শেষে সকল শিক্ষার্থী নিজেরা নিজেদের থালা-বাসন পরিষ্কার করে নিচ্ছেন এবং পরিষ্কার করেছেন খাবার খাওয়ার স্থানও।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত বলেন, আগে টিফিন ছুটির সময় বাড়িতে গিয়ে খেয়ে আসতাম। বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু হওয়ায় প্রতিদিন বাড়ি থেকে আসার সময় খাবার নিয়ে আসি। সেই খাবার সবার সাথে বসে খেতে ভালো লাগে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ইলিয়াছ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে যখন মিড-ডে মিল চালু করার নির্দেশনা এসেছে তখন থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে আসার সময় দুপুরের খাবার নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দিয়ে মিড-ডে মিল চালু করার জন্য চেষ্টা করি। চেষ্টা যখন করেছি সফলও হয়েছি। এখন বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বিদ্যালয়ে খাবার খাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মিড-ডে মিল চালু হওয়ার ফলে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং টিফিন পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখা যাচ্ছে।
লোহাগাাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করার জন্য শিক্ষক সমাবেশ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিক্ নির্দেশনা দেওয়া হয়। লোহাগাড়ায় এ পর্যন্ত ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী মিড-ডে মিল চালু করা সম্ভব হয়েছে। সরকার ঘোষিত সময় জুনের আগেই শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও উদ্যোগে লোহাগাড়ার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ মিড-ডে মিল এর আওতায় চলে আসবে বলে তিনি আশবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.