চকরিয়ায় টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যস্ত

এম.মনছুর আলম,চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা দুইদিনের লাগাতার ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি অতিক্রম করছে। এতে মাতামুহুরী নদীর দুই তীরবর্তী বসবাসকারী হাজারো পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। এখনো বন্যার মতো পরিস্থিতি না হলেও মাতামুহুরী নদী বিধৌত ইউনিয়নগুলো এবং পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ভারি বর্ষণে।টানা এ ভারি বর্ষণ আরো দু–একদিন স্থায়ী হলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব জানান, পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষা। তাই নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নামলেই ডুবে যায় এসব ওয়ার্ডের নিন্মাঞ্চল। এছাড়া ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পৌর শহর চিরিঙ্গার বেশ কিছু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান জানান, দুইদিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে বাড়ছে মাতামুহুরী নদীতে। ভারি বর্ষণ আরো কয়েকদিন স্থায়ী হলেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে। তবে এখনো (গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত) মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও ঢলের পানি নদীর দুইতীর উপচে পড়ার মতো উপক্রম হয়েছে। সুরাজপুর–মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীতে বাড়ার সাথে সাথে তার ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর ও দক্ষিণ সুরাজপুর গ্রামের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে অন্তত শতাধিক পরিবার। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, তার ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদ, হিন্দুপাড়া, বিবিরখিল, গোবিন্দপুর, দক্ষিণপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষ বর্তমানে নৌকায় করে চলাচল করছে। মাতামুহুরী নদী, হারবাং ছড়া ও সোনাইছড়ি খালের পানিতে এই অবস্থা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান জানান, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে ঢলের পানি আসতে শুরু করায় ইতিমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা জানিয়েছেন। তাই সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে জান–মাল বাঁচাতে সবকটি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্ক করা হয়েছে

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.