গোমাতলীর ত্রাস লেদু, নুরুল কবির ডাকাতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ জন সাধারণ

বার্তা পরিবেশক

সদর উপজেলার অন্তর্গত গোমাতলী বারডলিয়া পাড়ার সিরাজুল ইসলামের পুত্র কুখ্যাত ভূমিদস্যু লেদু ডাকাত এবং চর পাড়ার মৃত জমির সিকদারের পুত্র নুরুল কবির ডাকাত জোরপূর্বকভাবে সাধারণ মানুষের জমিদখল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারী নির্যাতন, দোকান পোড়া, লবণ ডাকাতি, লবণের মাঠের পলিথিন কাটা, মালেশিয়ায় মানব পাচারের নামে টাকা আত্মসাৎ, নিরীহ এলাকাবাসীকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করাসহ তাদের বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। দিনের পর দিন এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠায় স্থানীয় জনগণের প্রশ্ন ‘লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের খুটির জোর কোথায়’ এবং এদের অস্ত্র ও অর্থের যোগানদাতা কে? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ১৪/১৫ বছর ধরে লেদু ডাকাত তার আপন চাচা ও আত্মীয়-স্বজনের প্রায় সাড়ে বার একর লবণ ও মৎস্য চাষের জমি জোরপূর্বক ভাবে ভোগ দখল করে আসছিল। পুরো এলাকাবাসীকে অস্ত্রের হাতে জিম্মি করে তারা এতদিন পর্যন্ত এসব জমি জোত খতিয়ান নামে ভোগ-দখল করছিল। কিন্তু বিগত ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বেদখলকৃত জমির মালিকেরা প্রবাসী আবদুর রহমানের নেতৃত্বে এক হয়ে লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ফলে লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাত গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। তখন থেকে জমির প্রকৃত মালিকেরা তাদের জমিতে চাষাবাদরত আছে এবং দখলরত অবস্থায় তারা আদালত থেকে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে যার মামলা নং- এম.আর.আর ৬৩১/২০১৬ইং। লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সন্ত্রাসী বাহিনী দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি মোটেও শ্রদ্ধাশীল নয়। এদের প্রত্যেকের রয়েছে ৪/৫ টি করে মামলা। এ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা হলোঃ লেদু ডাকাতের সৎ ভাই ফারুক, মামুন, বোন জামাই বদিউল আলম, সিমবাদ, খলিল, লেদু ডাকাতের ছেলে ফাহিম, স্ত্রী গোলবাহার এবং সৎ মা রেহেনা আক্তার (প্রকাশ মুইশখাইল্ল্যানী) সহ আরো অজ্ঞাত ১০-১৫ জন। এ বাহিনী দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। যা গোমাতলী বাসীর কারো অজানা নয়।

বিগত ২০/০২/২০১৭ইং জমির মালিকগণ তাদের চাষকৃত জমির লবণ মাপতে গেলে লেদু ডাকাতের সৎ মা (রেহেনা আক্তার) বাধা দেয়। বাধাদিয়ে ঠেকাতে না পেরে রাগান্বিত হইয়া হাঁকাবকা করিয়া লবণের মাঠ হইতে চলিয়া যায়। পরবর্তীতে ঘটনার তারিখ ২০/০২/২০১৭ইং রাত আনুমানিক ১১.৩০ ঘটিকার সময় লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের সন্ত্রাসী বাহিনী আবুল কালাম প্রকাশ আবুর ছোট ভাই শামসুল আলমের দোকানে ঢুকিয়া এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারিয়া ও গলা চাপিয়া ধরিয়া শ্বাস-রুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মালামালসহ দোকানটি পুড়াইয়া দেয়। দোকানের মালিক শামসুল আলম একজন পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী লোক হয়। শামসুল আলমের স্ত্রী বাদী হইয়া মামলা করে যা ঈদগাহ পুলিশ পাড়ির এস আই দেবাশীসের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতিবন্ধী শামসুল আলমের স্ত্রী বাদী হইয়া মামলা করায় সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হইয়া বিগত ২৬/০২/১৭ ইং আনুমানিক ভোর ৬:৩০ ঘটিকার সময় শামসুল আলমের বড় ভাই আবুল কালামের চাষরত প্রায় ১৬ কানি লবণের মাঠের প্রায় ১০০০ মন লবণ ডাকাতি ও লোকসান করে মাঠের সমস্ত পলিথিন ছুরি দিয়া কেটে দেয় এবং এলোপাতাড়ি বৃষ্টিরমত গুলি বর্ষন করতে থাকে। চাষরত চাষীরা খবর পেয়ে সামনে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা বীর দর্পে সিনেমা স্টাইলে চলে যায় এবং পুলিশকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর আবুল কালাম ঈদগাহ পুলিশ ফাড়িকে ঘটনা অবহিত করলে এস.আই. দেবাশিষ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত পূর্বক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোহেছেনা আক্তার জানান, সন্ত্রাসীদের গুলি বর্ষণে তার ঘরের দরজা ও দেয়ালে গুলির দাগ লেগে যায় যা পুলিশ পরিদর্শক মোবাইলে ভিডিও করে নিয়ে যায়। এভাবে তারা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে গোমাতলীকে আতঙ্কিত জনপদ হিসেবে পরিচয় করতে চাই। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আবুল কালাম প্রকাশ আবু জানান, উপরে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদেরকে হাতে নাতে ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে।  লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের বিরুদ্ধে জি.আর ২০৮/২০০০ইং,জি.আর ২৬৬/২০০৩ইং, জি.আর ২৩৮/২০০৬ইং, জি.আর ২০৫/১৯৯৮ইং, এন.জি.আর ৫৯/২০০০ইং, জি.আর ১৮৬/২০০৮ইং, জি.আর ৩৫৯/২০০৬ইং, এস.টি ৪৯০/১৯৯৪ইং এবং সর্বশেষ সি.আর ১৭৮/২০১৭ইং দোকান পুড়ার মামলা রহিয়াছে। তারা মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ক্রসফায়ারের আসামি হয় এবং ঈদগাহ পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের ছবি সংযুক্ত মানব পাচারের মামলা রহিয়াছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা এবং গোমাতলীর সচেতন মহল এখন খুবই আতঙ্কগ্রস্থের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কখন কি ঘটে যায় বলা খুবই কঠিন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল এগিয়ে না আসলে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরিশেষে পুলিশ প্রসাশন, র‌্যাব দপ্তর, গোয়েন্দা বিভাগ এবং সরকারের যে কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের  প্রতি গোমাতলী বাসীর আকুল আবেদন প্রাকশ্যে ও গোপনে তদন্ত পূর্বক লেদু ডাকাত ও নুরুল কবির ডাকাতের এবং তাদের অর্থ ও অস্ত্র যোগানদাতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণ করে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা যে সন্ত্রাস ও দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় করেছেন তা বাস্তবায়ন করে অত্র এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.