আ’লীগ নেতা  আহসান উল্লাহকে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানোর অভিযোগ  

 

এম.মনছুর আলম,চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহ দীর্ঘ ১মাস ৬দিন কারাভোগের পর আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যাক্তি এবং রাজনৈতিক একটি মহল ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। সোমবার(১৯মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের একটি হোটেলে রেস্টুরেন্ট এ সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন আওয়ামীলীগ নেতা আহসান উল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে আ:লীগ নেতা আহসান উল্লাহ বলেন, জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে ছিলেন।এলাকার সাধারণ মানুষ ও সমাজ সংস্কারের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে সেবার মানসিকতা নিয়ে বিদেশ ছেড়ে দেশের মাটিতে ফিরে আসে জন্মস্থানে। মানুষের জন্য শুরু করি জনহিতকর কল্যাণমুলক কাজ। ফাইতং ইউনিয়নে নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করি।নিজ ব্যবসার পাশাপাশি আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে পড়ি।পরবর্তীতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই।তিনি সংবাদ সম্মেলনে  আরো বলেন, তার নেতৃতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে। সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির কারণে আস্থা অর্জন করেন বীর বাহাদুর এমপি’র।ঝিমিয়ে পড়া ফাইতং আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিক ভাবে গতিশীলতা ফিরে আনতে তার ভুমিকা ছিল অত্যান্ত জোরদার।সেই থেকে তার বিরুদ্ধে একটি মহল শুরু করে নানা চক্রান্ত।২০১৬ সালে ফাইতং ইউপি নির্বাচনে বীর বাহাদুর এমপি’র নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াই। এরপরও একটি মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে।রাজনৈতিক উত্থান ঠেকাতে আমাকে ইয়াবা পাচার ঘটনায় জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় আসামী করেছে ইর্ষান্বিত একটি মহল। ওই মহলটি আমার বড় ভাইয়ের তালকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বাদী করে দায়ের করা একটি মামলায়ও আমাকে জড়ানো হয়েছে। ওই মহলটি যেকোন উপায়ে আমাকে এলাকা ছাড়া করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো দাবি করেন, আইনী প্রক্রিয়ায় আমার ভাইয়ের সাথে তাঁর স্ত্রী শেফায়েতুন নেছার ডিভোর্স কার্যকর হলেও ফাইতং ইউনিয়নের কতিপয় মহল তাকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে আমার পরিবার ও আমার বিরুদ্ধে।সর্বশেষ চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে দিয়ে ইয়াবা নাটক তৈরী করে আমাকে ফাঁসাতে পুলিশে খবর দেয়। ওইদিন বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করে। পরদিন আমাকে তিনশত পিস্ ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত মামলার আসামি হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় আমি গত ১২ মার্চ কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনের মাধ্যমে কারামুক্ত হই। আইনের রক্ষক ও এলাকাবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন কী অপরাধে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সম্মান ক্ষুন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো।এ ব্যাপারে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে আসল সত্য ও কুচক্রী মহলের চক্রান্ত উম্মোচিত হবে।আমি এসব চক্রান্তের সুবিচার নিশ্চিত করতে ফাইতং ইউনিয়নের জনগনের কাছে তুলে দিলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, বর্তমান সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম, ইউপি সদস্য সরওয়ার আলম, বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সহ-অর্থ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.