আদালতের রায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ দখলের চেস্টা

বার্তা পরিবেশক

কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালয়িরছড়ায় আদালতে রায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের চেস্টা চলছে। এ কাজে একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্য আদালতের আদেশ অমান্যকরে গোপনে ভুমিদস্যুর পক্ষাবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে,শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার চেয়ারম্যান ঘাটা নামক স্থানে ০.৩৩৩ একর বা ১০ কড়া জমিতে ৩ তলা বাড়ির মালিক সোনা আলী ও আকতার জাহান। যার খতিয়ান নাম্বার সৃজিত বি.এস ২৭২৬। তারা উভয়ে স্বামী স্ত্রী। এর মধ্যে ১৪/৫/২০১৫ ইং তারিখ আকতার জাহান নিঃসন্তান হিসাবে মৃত্যু বরণ করলে দেশের প্রচলিত এবং ইসলামিক আইন অনুযায়ী আকতার জাহানের ভাই যথাক্রমে এম,ওয়াজিবুল হক, মনিরুল আলম, খাইরুল হক, মুহাম্মদ জিয়াউল হাসান, বোন আনোয়ারা বেগম, জাহানারা বেগম, সরোয়ার জাহান সর্বপিতা মরহুম শাহাব উল্লাহ। উক্ত আকতার জাহানের ওয়ারিশ হিসাবে অংশিদার হয়। সেটা বুঝতে পেরে সোনা আলী নিজেকে একক ওয়ারিশ দেখিয়ে সম্পূর্ন তথ্য গোপন করে কক্সবাজার সদর ভুমি অফিসে নামজারী জমাভাগ ৪২৭৯/১৫ নম্বর মামলা মুলে ০.৩৩৩ একর জমি নিয়ে বি.এস ১৩৪১২ খতিয়ান সৃজন করে।

পরবর্তীতে তা জানতে পেরে আকতার জাহানের ওয়ারিশগণ নামজারী জমাভাগ ৪২৭৯/১৫ নম্বর মামলা মূলে ৬/৬/২০১৬ ইংরেজী তারিখে সদর সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলামের নির্দেশে ১৩৪১২ খতিয়ানে উক্ত ওয়ারিশগনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। ইতি পূর্বে আকতার জাহানের ওয়ারিশ গনের পক্ষে ওয়াজিবুল হক গং বাদী হয়ে ১০/৩/২০১৬ ইং তারিখে কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্থাবর সম্পত্তি সরসে নিরসে বিভাগ পাওয়ার আবেদন করে মামলা করেন যার নাম্বার অপর ৩৭/২০১৬ ইং ।

উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক আলাউল আকবর ৩০/৯/২০১৯ ইং রায় প্রদান করেন, যার আদেশ নাম্বার ৩৬, রায়ে বলা হয়েছে এতদ্বারা আরজির নালিশী তপশীলোক্ত জমি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক বিভাগ করে দেয়ার জন্য বিবাদীকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

ব্যার্থতায় বাদীপক্ষ আদালতযোগে এডভোকেট কমিশনার নিয়োগক্রমে নালিশী জমি পৃথক বিভাগ করে নিতে পারবেন। সেই প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ না মেনে সোনা আলী আকতার জাহানের ওয়ারিশদের জমি বুঝিয়ে না দিলে আদালতের রায় অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালত এডভোকেট মীর মোশারফ হোসেনকে এডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করেন।

এডভোকেট কমিশনার হিসাবে মীর মোশারফ হোসেন এম, ওয়াজিবুল হক গং – বাদী এবং সোনা আলী বিবাদী এবং বাদি পক্ষের আইনজীবি শামসুল হুদাকে তৃতীয় দফায় নোটিশ করে সর্বশেষ ৩/১০/২০২০ ইং তারিখ সকাল ১০ টার সময় উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ জমিতে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ করে।

সে প্রক্ষিতে এডভোকেট কমিশনারের নোটিশ পেয়ে উক্ত তারিখে হাজির থাকে এম,ওয়াজিবুল হক গং। সেখানে এডভোকেট কমিশনার নিজে উপস্থিত থেকে নালিশী জায়গার পরিমাপ গ্রহন করে উপস্থিত স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষাতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেছে।

কিন্তু সেই ঘটনাকে সম্পূর্ন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য গত ১৫ অক্টোবর দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আতংকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্নবাসন কেন্দ্রের শিশুরা শিরুনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

যেখানে সোনা আলী এবং শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্নবাসন কেন্দ্রের জেসমিন আক্তারের উদৃতি দিয়ে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট।

মুলত আদালতের রায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এই মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে। আর জেসমিন আক্তার একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে মিথ্যা প্রবাকান্ডা ছড়াচ্ছেন, তিনি তা করতে পারেন না ।

এ ব্যপারে এডভোকেট কমিশনার মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ৩ অক্টোবর আমরা আদালতের নির্দেশে সেখানে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছি। কেউ দেয়াল টপকানোতো দূরের কথা একটি শব্ধও করেনি। পত্রিকায় যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা।

এদিকে বাদী পক্ষের এ,ওয়াজিবুল হক বলেন, যেহেতু খতিয়ান এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সোনা আলী সহ আমরা ৭ ভাই বোন বাড়ি এবং জমির অংশিদার তাই শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্নবাসন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের উচিত ভাড়ার অংশ হতে আমাদের অংশ আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া।

বিষয়টি তৎকালীন জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রীতম কুমার চৌধুরীর সাথে আলাপ করলে তিনি বিষয়টি সুরাহা করার কথা থাকলেও তিনি অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সোনা আলী সহ কতিপয় ব্যাক্তি আদালতের রায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ দখল করার পায়তারা করছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.