থানায় গিয়ে অপহরণ মামলা করল পরোয়ানাভুক্ত আসামি

ইমাম খাইর#
অপহরণ, ইয়াবাসহ ডজন মামলার আসামি মো. ইলিয়াস। থানার খাতায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি প্রতিপক্ষকে দমাতে ভাইকে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন টেকনাফ থানায়। অথচ তার ভাই মো. ইদ্রিস ভর্তি আছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। তিনিও বহু মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। দুজনই ভয়ঙ্কর গিয়াস বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মো. ইলিয়াসের দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ভাই মো. ইদ্রিসকে অপহরণের অভিযোগ এনে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। এজাহারে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।

সিনহা হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশের এমন কাণ্ডে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলার আসামিরা হলেন রঙ্গিখালীর কোনাপাড়ার মো. ইসমাঈলের ছেলে শাহ আলম, আবুল আলম, সেলিম চৌকিদার ও খাইর হোসেন।

তারা চারজনই মো. ইলিয়াস ও মো. ইদ্রিসের বিরুদ্ধে করা পৃথক চারটি হত্যা মামলার বাদী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে ইদ্রিসকে অপহরণ করা হয়েছে বলে প্রচার চালায় গিয়াস বাহিনীর সদস্যরা। পরে ভাই ইলিয়াস বাদী হয়ে শুক্রবার টেকনাফ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন যেটি শনিবার মামলা হিসাবে রের্কড হয়েছে। এজাহারে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, কথিত অপহৃত ইদ্রিস গত দুইদিন ধরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপরও তাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি শুক্রবার রাতেই কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছিল। যার কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে ‘অপহরণ’ দেখিয়ে কিভাবে থানায় মামলা হয়, তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান রহমানের কাছে।

তিনি বলেন, মামলা রেকর্ড হয়েছে ঠিক, তবে নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না। সঠিক তথ্য যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরোয়ানাভুক্ত আসামি স্বশরীরে থানায় হাজির হয়ে কীভাবে মামলা করে?- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নতুন যোগদান করায় আসামিকে চিহ্নিত করতে পারি নি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.