দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এই অভিযান চলবে, এটাকে বিশেষ অভিযান বলা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা যতক্ষন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ অভিযানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা মাদকের বিষয়ে অলআউট প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি। এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি যেটা করলে ভালো হবে, আমরা সেখানেই যাব।
এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, চলমান অভিযানে ব্যর্থতা আর সফলতার প্রশ্ন এখানে আসেনি। প্রশ্নটা হচ্ছে- আমরা মাদকের ভয়াবহতায় আক্রান্ত হয়েছি এটা বাস্তবতা। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী আজকে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আমরা সেই অনুযায়ী সর্বাত্মকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সামাজিকভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন সমাজপতিদের, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এবং জনগণকে এর সাথে সম্পৃক্ত করেছি। গোয়েন্দাদের মাধ্যমে আমরা যে লিস্ট তৈরি করেছি তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। জিরো টলারেন্সের অর্থ হচ্ছে আমরা সব কিছুই করব। আপনাদের কাছেও যদি কোনো তালিকা থাকে তা আমাদেরকে দিন। আমাদেরকে সমৃদ্ধ করুন। আমরা ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে বাদ দেব না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আপনারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এখানে আমাদের একজন সংসদ সদস্য জেলে রয়েছে। সরকারদলীয় কিংবা বিরাট সমাজপতি সেগুলো এখানে বিবেচ্য নয়। সে যেই হোক অপরাধ করলেই তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহারিদর্শক, সকল গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বিজিবি, আনসার ও ফায়ার সার্ভিস প্রধান, জননিরাত্তা ও সেবা বিভাগের সচিব এবং গার্মেন্টস সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.