কী হচ্ছে ইরানে
ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির কাহদেরিজান শহরে ”থানা লুট করার” সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছ’জন মারা যান। এছাড়া খোমেইনশাহরে ১১ বছর বয়সি এক শিশু ও ২০ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়। আর নাজাফাবাদ শহরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য মারা গেছেন। এই তিন জনই শিকার করার রাইফেলের গুলিতে মারা গেছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে। এ নিয়ে গত দু’দিনেই অন্তত ২১ জনের নিহত হবার খবর পাওয়া গেলো।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএলএনএ জানিয়েছে যে, গেল তিন দিনে সাড়ে চার শ’ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেহরানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, এদের মধ্যে গত শনিবার ২০০ জনকে, রবিবার ১৫০ জনকে এবং সোমবার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ইরানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিবাদে ছয়দিন আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং আরব অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ইরানের জড়িয়ে পড়ারও প্রতিবাদ জানান। বিশেষ করে সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দেয়ার সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং একইসঙ্গে ”বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের” বিরুদ্ধে কঠোর হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি, বরং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীরা নানা শহরে বিক্ষোভের ডাক দেন। এতে ক্ষিপ্ত সরকার টেলিগ্রাম নামের বার্তা আদান প্রদানকারী অ্যাপটি বন্ধ করে দেয়।
এর আগে, ইরান সরকার ও বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষকেই সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি আর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইরানে যেন কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ না-হয়, মঙ্গলবার সে আশাবাদ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর বয়ান হলো, ইরানের জনগণ ‘‘খাবার ও স্বাধীনতা দু’টোর জন্যই ক্ষুধার্ত।” সূত্র : ডয়চে ভেলে

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.