এস এম হুমায়ুন কবির, সহ বার্তা সম্পাদক।।
রামু উপজেলা গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লাগোয়া। সেখানে অপরাধীরা গর্জনিয়া – কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে চোর – ডাকাতের প্রাদুর্ভাব আশংকা জনক।কয়েক বছর আগেও গণ ডাকাতি হতো।মসজিদ, মন্দিরের মাইকে রাত- বেরাতে জনগণ কে মাইকে ” অমুক জায়গায় ডাকাত হানা দিচ্ছে ডাকাত প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন”বলে ঘোষনা শুনা যেত।অতঃপর গর্জনিয়া- কচ্ছপিয়ায় জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়তো।ডাকাত প্রতিরোধে নিরস্ত্র জনতা দল বেধেঁ পাহারা বসাতো।আতংকের এক জনপদ গর্জনিয়া- কচ্ছপিয়ার শান্তি প্রিয় জনগণের মনে অশান্তির দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু ইসমাঈল মোহাম্মদ নোমান পাড়ায় পাড়ায় ডাকাত প্রতিরোধে জনগণের বাহিনী করে ডাকাত প্রতিরোধে পুলিশের সহযোগী হিসাবে কাজ করার ঘোষণা দিলেন। যেই কথা সেই কাজ পুলিশ- জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডাকাত বাহিনী পিচু হটতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি এমন হয় জনতার গণ বিস্ফোরণের কবলে পড়ে কচ্ছপিয়া হাজির পাড়ার কুখ্যাত ডাকাত সর্দার লেদা পুঁতিয়া সহ বেশ কয়েক জন ডাকাত কে কুপিয়ে হত্যার পর অপরাপর ডাকাত দলের সদস্যরা প্রাণ বাচাঁতে দিক্বিদিক পালিয়ে আত্ন গোপনে চলে যায়। একই ভাবে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ডাকাত প্রতিরোধে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন পুলিশের সমন্বয়ে। কুখ্যাত ডাকাত গডফাদার প্যাচাইয়া সহ বেশ কয়েক ডাকাত খুন সহ শীর্ষ ড়াকাতরা পুলিশের জালে আটক হলে এলাকায় শান্তি বিরাজ করে। কিন্তু এলাকায় সম্প্রতি চোর-ডাকাতের প্রাদুর্ভাব আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশে গর্জনিয়া ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েক টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার জনতা সহ রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের ও ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আইসি সাব ইন্সপেক্টর দেবব্রত রায় এর নেতৃত্বে ব্যাংঢেবা জঙ্গলে বিশেষ অপারেশন চালিয়ে সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েক টি আস্তানা ধ্বংস করে দেন এতে দেশ জুড়ে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসায় ভাসছে। এরই মধ্যে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আবছারের বদলি জনিত কারনে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আলোচিত, চৌকস ও সাহসী সাব ইন্সপেক্টর দেবব্রত রায় গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আইসির দায়িত্ব পান।
দায়িত্ব নিয়েই বেশ কয়েক দফা বৈঠকে বসেন অপরাপর পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে।কচ্ছপিয়া- গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরিচ্ছন্ন ইউপি সদস্যদের সাথে ও সমন্বয় করে চিরুনি অভিযান শুরু করেন।কেবল দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহে আন্তঃজেলা শীর্ষ চোর দলের লিডার নুরুল আবছার বাবুল (২৫) রামু পূর্বাঞ্চলের ডাকাত দলের সর্দার হেলাল উদ্দিন (৩৩) কে গ্রেপ্তার করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আইসি সাব ইন্সপেক্টর দেবব্রত রায় এর নেতৃত্বে সাব ইন্সপেক্টর মনজুর, মুরাদ।
একসপ্তাহে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গহীন এলাকার পাশাপাশি রাতের আঁধারে নদী পেরিয়ে অন্তত নয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে গর্জনিয়ার মাঝিরকাটার আলোচিত ডাকাত আলম ওরফে লম্বা আলমও রয়েছে।
কক্সবাজারের রামু থানার নিয়ন্ত্রণাধীন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে রামুর পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ ডাকাত হেলাল উদ্দিন (৩৩) ও শীর্ষ চোর নুরুল আবছার বাবুলকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা গর্জনিয়া বাজারের একটি দোকান থেকে চুরি হওয়া তিনটি মুঠোফোন ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে উদ্ধার করেছে।
গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- ডাকাত হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকের পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার বাবার নাম মৃত হাফেজ আহমদ। চুর বাবুলের বিরুদ্ধে অতিতে তিনটি চুরির মামলা ছিল। শনিবার রাতে বাবুলের কাছ থেকে নতুন করে তিনটি চোরাই মু্ঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বাবুলের বাবার নাম আবুল কালাম। হেলাল ও বাবুলের বাড়ি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের নতুন তিতারপাড়ায়। তাদের দুজনকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়- গত একসপ্তাহে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গহীন এলাকার চোর- ডাকাত ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে নদী পেরিয়ে এবং দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত নয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে গর্জনিয়ার মাঝিরকাটার আলোচিত ডাকাত আলম ওরফে লম্বা আলমও রয়েছে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) আবু ইসমাইল মো. নোমান ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন- এসআই দেবব্রত রায় গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ হওয়ার পর থেকে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির উন্নতি হচ্ছে। জনগণ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান ইউপি চেয়ারম্যানদ্বয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.