বিশেষ দিন ছাড়া পর্যটক খরা

মোঃ নেজাম উদ্দিন,কক্সবাজারঃ
বিশেষ দিন ও সরকারি ছুটির দিনে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম হলেও এর পর পর্যটন নগরী কক্সবাজারে তেমন পর্যটক আসে না । সপ্তাহে ৩দিন বেশ পর্যটক থাকলেও বাকি চারদিন কাটাতে হয় পর্যটক শৃন্য। আর এই ৩দিনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের গলাকাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে হোটেল মোটেল জোনের বেশ কয়েকটি হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছিল ভাড়া বেশি নেওয়ার কারনে।
সপ্তাহে ৩দিন ব্যবসার কারনে পর্যটন এলাকার হোটেল মোটেল জোনের সবকিছুর দাম বেড়ে যায় কয়েকগুন। ব্যবসায়ীরা মনে করে সপ্তাহে ৪দিন বসে থাকতে হয় ৩দিন ব্যবসা হয় তা দিয়ে চলতে হয়।
বৃহস্পতিবার,ও শুক্রবার ও শনিবারের দুদিনের ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটক এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছে।এখন রেকর্ড় সংখ্যক পর্যটকে মুখর কক্সবাজার। ফাঁকা নেই কক্সবাজারের কোন হোটেল। লাখো পর্যটক সমাগমে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই । সাপ্তাহিক ছুটির কারনে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে।গত বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল-মোটেলগুলোতে ঠাঁই মিলছে না আজ শনিবার
(৮ জানুয়ারী) পর্যন্ত সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের সব কক্ষই পর্যটকে ভরপুর থাকবে।
বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার (৬জানুয়ারী ) থেকেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকে মুখর হয়ে ওঠে। চারদিন পর্যটক শুন্য থাকবে এর ফলে কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেল-মোটেলে এখন চড়া দাম রুম। অনেকেইে বাধ্য হয়েই ফুটপাতে রাত কাটিয়ে দেন ।আবার কেউ কেউ যাত্রীবাহী বাসের ভেতরে রাত কাটাচ্ছে। খোলা জায়গায় কোনো রকম রাত কাটালেও বিপাকে পড়েছেন প্রাকৃতিক কাজ করতে গিয়ে। এতে বিচের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেছে।এদিকে বাস-ফুটপাতে রাত কাটালেও শৌচাগারটি না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকরা
দূর পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার পৌছে পর্যটকদের বেশ কিছু বাস। সমুদ্র ¯œান এর আগে দরকার তাদের বিশ্রামের জায়গা ।
শুক্রবার সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায়, পর্যটকরা সৈকতে নেমে গোসল করছেন। আরও অনেকেই বালুচরে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। কেউ দ্রুতগতির জেডস্কি নিয়ে নীলজলের বিশাল সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। আবার কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন ছেলেমেয়েদের ঢেউয়ের তালে সমুদ্র স্নানের দৃশ্য দেখে।
অন্যদিকে পর্যটকের সমাগমের করনে বেশ কিছু অসাধু রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী গলাকাটা বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। হোটেল-মোটেল ছাড়াও পরিবহণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন।

এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা হয়রানি ও প্রতারিত হচ্ছে। কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহণগুলো করছে ইচ্ছেমতো ভাড়া। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমদ্র সৈকতের গৌরব বহনকারী কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দেখা গেছে, হোটেল মোটেলগুলোতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায় করছে। আগে যে রুম ভাড়া ১ থেকে ২ হাজার টাকা ছিল, তা ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে পরিবহন, খাবারের দোকান ও রেষ্টুরেন্টগুলো অস্বাভাবিক দামে পর্যটকদের ঠকাচ্ছে। শহরের কলাতলী মোড় থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত ইজিবাইক ও রিক্সা ভাড়া জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা। যদি কেউ পুরো ইজিবাইক নিয়ে আসে তাহলে ৩০ থেকে ৪০টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু, শুক্রবার বিকালে রিক্সা ও ইজিবাইক চালকরা আদায় করছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
অবশ্য, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু কোরাল রেস্টুরেন্ট বা কয়লা রেস্টুরেন্ট নয়, কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, জোন, বিচ এলাকা, ইনানীসহ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন স্থানে যে চার শতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে এর মধ্যে বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য।
রিয়াদ নামের পর্যটক জানান, “ছুটি পেয়েছি; তাই সুন্দর এই কক্সবাজারে চলে এসেছি। এখানকার অপরূপ প্রকৃতি বেশ ভাল লাগে, কাছে টানে। ফলে ছুটির সময়টা এখানে পাহাড়, সাগর ও প্রকৃতি উপভোগ করব।”
এদিকে পর্যটকের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈকতের ফটোগ্রাফার, ঘোড়াওয়ালা, জেড স্ক্রী ও বাইক চালকরা।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, ছুটির প্রথমদিন গত ‘ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনেই কমপক্ষে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেলে দুই লক্ষাধিক অতিথি থাকতে পারেন।

ফটোগ্রাফার কামাল বলেন, বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। পর্যটকের ছবি ভাল আয়ও হচ্ছে। আশা করি, আরও দুই/একদিন ভাল ব্যবসা করব। এরপওে আর তেনম পর্যটক থাকে না । এমনকি আমাদের না খেয়েও থাকতে হয় ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল ম্যানেজার বলেন, কলাতলী থেকে শুরু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মোড় পর্যন্ত কয়েকটি দালালচক্র রয়েছে। যারা এই টানা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু উপায়ে হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও কটেজগুলোর সাথে এই দালালচক্র জড়িত রয়েছে। তারাই পর্যটকদের হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমুদ্র সৈকত ও সড়কগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অবস্থান দেখা গেলেও হোটেল মোটেল জোনে কোন ধরণের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের লোকজন দেখা যায়নি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রচুর লোকজন এসেছে। আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে চেষ্টা চালাচ্ছি। যে কোনো ধরনের হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল-মোটেল জোনে টহলে রয়েছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত ও আশপাশে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বীচ বাইক নিয়েও রয়েছে টহল। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, ‘কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের সেবা দিতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে। সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র। পর্যটকদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতামূলক মাইকিং ও প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের হয়রানি রোধে, পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.