দোকানের সামনে উচু ড্রেন

         কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজ

# বেডেছে জনদূর্ভোগ
# দোকানের সামনের দালান সমান ড্রেন
# দোকানের মুখ বন্ধ
# ডুকতে পারছেনা গ্রাহক
মোঃ নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজারঃ
কক্সবাজার পৌর শহরে সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাধারন মানুষের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শত কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারনা করছে সচেতনমহল। সড়কের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উচু করায় সাধারণ দোকানদার, দোকান মালিক, ও বাড়িওয়ালারা পড়েছে বিপাকে। তারা তাদের দোকান ও বাড়িতে ডুকতে পারছে না। দোকান বা বিল্ডিংএর সামনে করা হয়েছে দালান সমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য কাজ শুরু করে। ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)
গত বছর কক্সবাজার পৌর শহরের হলিড়ে মোড থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরন ও সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু করলেও ধীরগতির কারনে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা অসহনীয় দূর্ভোগে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে সড়কের কাজের আগে পাশের ফুটপাত ও ড়্রেেনজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে । এবং তা সড়কের পাশে থাকা মালিকানাধীন বিভিন্ন দোকানপাট ও বড় মার্কেট এর সামনে দোকান থেকে প্রায় ৩ খেকে ৪ ফুট উচু করা হয় যার ফলে হলিড়ে মোড থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত দোকান ও ঘর মালিকদের নিজস্ব মালিকাধিন নিচতরা অকেজো হয়ে গেছে অথবা তাদের বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলতে হবে ।যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে কয়েক শত কোটি টাকা।
কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক ফজলুল কাদের চেীধুরী জানান, সড়কের কাজ করছে আমরা তাতে খুশি। পানি যাতায়াতের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা অত্যান্ত প্রয়োজনীয় । কিন্ত যে ড্রেনগুলো প্রধান সড়কে করা হয়েছে তা হাজার হাজার  সাধারণ মানুষ ও দোকানদারদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। ড্রেনগুলো সড়ক থেকে ৪ফুট উচু করা হয়েছে। যার ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকান ও ঘরের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যাবে দোকানপাট।আমি মনে করি এটি সাধারণ মানুষকে দূর্ভোগে ফেলার জন্য পরিকল্পিত করা হয়েছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, বাজারঘাটা হয়ে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে তা এতো উচু করা হয়েছে এখন থেকে কোন দোকানে ডুকতে পারছেনা গ্রাহক। যদি এভাবে করা হয় তবে সকল দোকান মালিক ও বাড়িওয়ালাদের বিল্ডিংএর নিচ তলা ভেঙ্গে ফেলতে হবে যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শত কোটি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ এর সাথে মোবাইলে কথা হলে প্রকল্পের পিডির সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
কক্সবাজার প্রধান সড়কের প্রকল্প কাজের পিডি লেঃ কর্ণেল খিজির খান এর সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, কক্সবাজার শহরটি পুরোনো । এখানে যেসব দালান রয়েছে তার অধিকাংশ আগেকার। এখন আমরা সড়কের যে কাজ করছি তা পরিকল্পনা নিয়ে করছি যেন দীর্ঘ মেয়াদী হয়। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমরা বিষয়টি নিয়ে বসেছিলাম আশা করছি আগামী সোমবারের মধ্যে একটি সমাধান আসবে। আরো বিস্তারিত যদি জানার থাকে তবে অফিসে এসে জেনে নিতে পারেন।

এদিকে দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার হিসাবে পরিচিত। বিশ্বজুড়েও যার পরিচিতি। অথচ প্রকৃতির সেরা উপহার এই শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে যেকোনো প্রান্তিক শহরকেও হার মানায়। চলমান উন্নয়ন কাজের গতি  ও শ্রমিক কম থাকায়  সড়কের কাজ ধীরগতি হওয়ার কারনে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরক্তি চলে এসেছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সড়কের কাজ নিজে এখন আরামে বসে আছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা । তারা বলছে যদি সওজ এর হাতে থাকতো তবে এই মহা বিপদে কিছু কাজ করে হলেও স্থানীয় ও আগত পর্যটকদের জন্য চলাচল সুবিধা করে রাখতেন।
বর্তমানে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের প্রধান সড়ক। শহরের বাজারঘাটা থেকে টার্মিনাল  পর্যন্ত সড়কজুড়ে খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় পর্যটকসহ স্থানীয় মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন অলিগলির উপ-সড়কগুলোর আরও বেহাল অবস্থা। যে কারণে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.