ডারউইনে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি!

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ মেলবোর্নে এখন ঠাণ্ডা। সিডনিতেও তাই। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোর একই অবস্থা। কিন্তু দেশের আরেক প্রান্তে নর্দার্ন টেরিটোরিতে তা নয়। সেখানকার রাজধানী ডারউইন। যেটি আসলে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চল। মে থেকে সেপ্টেম্বর সবচেয়ে শুকনো মৌসুম। দক্ষিণ এশিয়ার সাথে আবহাওয়ার খুব মিল। আরো নির্দিষ্ট করে বললে এখন বাংলাদেশের যে কন্ডিশন তার সাথে মেলে অনেকটা। আর সেই কারণেই বাংলাদেশ সফরের আগে স্টিভেন স্মিথের অস্ট্রেলিয়া দল তাবু গেড়েছে ডারউইনে। সেখানে আগে থেকেই উইকেট বানিয়ে রাখা। কোচ ড্যারেন লেম্যান বলছেন, ওখানকার উইকেট ঢাকা ও চট্টগ্রামের উইকেটের সাথে মিল রেখে করা।

তার মানে কি বুঝছেন? অস্ট্রেলিয়া দল তো দুবাইয়েও যেতে পারতো। যেমন গিয়েছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চের ভারত সফরের আগে। সেই কথা মনে করে স্মিথ তার কলামে সম্প্রতি লিখেছেন, ৫ দিনের সেই ক্যাম্প থেকে খুব ফল পেয়েছিল তার দল। ‘ছেলেরা পরিকল্পনা তৈরি এ কন্ডিশন নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা করেছিল। স্পিনিং বল ও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার সাথে কাজ করেছিল।’ দুবাইয়েও তখন উপমহাদেশের মতো কন্ডিশন।

বুধবার ডারউইনে গেছে স্মিথের ১৪ সদস্যের দল। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে অনুশীলন। ওখান থেকেই ১৮ আগস্ট সোজা বাংলাদেশে যাবে তারা। একটি দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। তারপর ২৭ আগস্ট ঢাকায় প্রথম এবং ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। এই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন ২৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে তাপমাত্রা। মেলবোর্নে সর্বনিম্ন যেটি ৯ সেটি ডারউইনে এখন ২১। আর এই সপ্তাহের শেষ নাগাদ যা পূর্বাভাস তাতে ডারউইনে সর্বনিম্ন ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে তাপমাত্রা। আর্দ্রতা ৭০ শতাংশ। অনেক মিল বাংলাদেশের সাথে।

স্মিথরা দুবাইয়ে ৫ দিনে যে ফল পেয়েছিলেন ১৮ তারিখের আগ পর্যন্ত ডারউইনে নিজেদের তৈরি করে তার চেয়ে বেশি ফল লাভের আশা করছেন। কারণ, নিজেদের মতো করে উইকেট তৈরি করতে পেরেছেন ওখানে। স্মিথ বলছিলেন, ‘প্রতি সপ্তাদুয়েক পরপরই কাউকে না কাউকে ওখানকার উইকেট দেখতে পাঠিয়েছি যাতে সেটা বাংলাদেশে যেমনটা পাবো তেমনটা থাকে।’

কোচ লেম্যান আরেকটু ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। ওখানে যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের টেস্ট উইকেটের মতো উইকেট তৈরি করে রেখেছেন ৬টি, সেটাই বলছিলেন। ‘নর্দার্ন টেরিটোরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অসাধারণ। ওখানে তারা বাংলাদেশে আমরা যেমন পাবো তেমন উইকেট বানিয়ে রেখেছে। ওগুলো নিচু ও ধীর, স্পিন করে সেখানে।’ লেম্যান বলছিলেন, ‘ওখানে তিনটি উইকেট আছে ঢাকার উইকেটের মতো। আরো তিনটি আছে চট্টগ্রামের উইকেটের মতো। এছাড়া সেন্টার উইকেটও আছে ফিল্ডিংয়ের জন্য। কন্ডিশন, উষ্ণতা ও আর্দ্রতা যেমনটা আমরা সেখানে (বাংলাদেশে) মোকাবেলা করবো তেমনটাই থাকছে। প্রস্তুতিটা অসাধারণ।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.