মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজারঃ
দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল । কিছুদিন আগে কক্সবাজারের এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের বিরোদ্ধে নানা অনিয়মের কথা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় তার অধিনস্থ উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। টেন্ডারের গোপন রেইট ফাঁস, নিজস্ব ঠিকাদার দিয়ে কাজ ভাগিয়ে নেওয়া, ঘুস গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে আগে থেকেই। অবম্য তা এখন দুদক তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে উপজেলার গরীব অসহায়দের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর মাধ্যমে কক্সবাজার সদর উপজেলায় প্রায় ১৭শত টয়লেট বরাদ্দ দিয়েছে ওয়ার্ড় ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার। এই টয়লেট নিতে মানতে হয় নানা নিয়মনীতি । সেই নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা একজনের টয়লেট আরেকজনকে, টয়লেট বানাতে নি¤œমানের জিনিসপত্র ব্যবহারসহ এমন অনেক অভিযোগ তুলে কক্সবাজার সদর উপজেলায় টয়লেট পাওয়া ভোক্তভোগীরা অভিযোগ দাখিল করেছে সম্প্রতি। তারা হলেন পিএমখালীর ছনখোলা মালি পাড়ার রমজান আলী, একই ইউনিয়নের পশ্চিম জুমছড়ির জয়নাল আবেদীন, খুরুশকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ হিন্দু পাড়ার উর্মি দে, একই ওয়ার্ডের সৌরজিৎ ও চম্পা রানী দে সহ প্রমূখ।
অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে কারণ দর্শানো (শোকজ) করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৬.০৩.২২০০.০৬১.৯৯.০০২.২৪-১০৭১/১(২) স¥ারক নম্বরে কারণ দর্শানো (শোকজ) এর চিঠিটি ইস্যু করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
# প্রকল্পে নয়ছয়
# ৭ জন উপকারভোগীর অভিযোগ
# নিম্নমানের বালি, ইট ব্যবহারের অভিযোগ
জানা গেছে,০১ অক্টোবর( বুধবার) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আলী আজগরের নির্দেশে ৪৬.০৩.১৯০০.০০১.৩৫.৬০১ (পি).২৪-৩৩৭ স¥ারকে কক্সবাজার জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুরকে আহবায়ক ও আইডবিøওএমের একজন সদস্যকে নিয়ে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৪ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হলেও এখনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী আবুল মরজুর। অবম্য তিনি জানিয়েছেন তদন্ত চলমান রয়েছে আমার আরেক তদন্ত কর্মকর্তা এক্সিডেন্টের কারণে তদন্তের কাঝ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে তবে আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কক্সবাজার যোগদান করার পর থেকে ঠিকাদারদের সাথে যোকসাজশ করে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করে আসছে। এমনকি তিনি অফিসের নিয়মনীতি লঙ্গন করে ঠিকাদাররা শতভাগ কাজ বুঝিয়ে না দিলেও প্রকল্পের ৬০-৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে বিল পরিশোধ করে দেন । বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার বাণিজ্য করার ব্যপক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৩০ সেপ্টম্বর পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা মালিপাড়ার বাসিন্দা উপকারভোগী আবদুল করিমের পুত্র রমজান আলী হাউজহোল্ড টয়লেটের অনিয়ম নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। একই দিনে আরো ২জন উপকারভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। তারা হলেন, পিএমখালী ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম জুমছড়ির বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম জুমছড়ির বাসিন্দা উপকারভোগী মৃত আবদু রহমানের পুত্র সাহাব উদ্দিন।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক অনিচ্ছুক এক কর্মচারীর ভাষ্যমতে, উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার লালমাই উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্মচারীদের সাথে অসাদাচরণ ও উগ্র মেজাজে কথা বলতেন। ক্ষমতার দম্ভে তিনি তার অধিনস্ত কর্মচারীদের অবমূল্যায়ন ও খারাপ আচরণে ব্যস্থ ছিলেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের আর্শিবাদে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন করে নিয়মবহিভর্‚ত ভাবে ২০২৩ সালে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে হাউজহোল্ড টয়লেট, রেইন ওয়াটার, কমিউনিটি টয়লেট, ডিপ টিউবওয়েল, সেলো টিউবওয়েল, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, পাইপ লাইন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। একচেটিয়া টেন্ডার দিয়ে কমিশন বাণিজ্যের কারণে বেশিভাগ ঠিকাদার তারপ্রতি মনক্ষুন্ন ও নিরাশ। তিনি অল্পসংখ্যক ঠিকাদারকে টেন্ডার দিয়ে বড় অংকের কমিশন বাণিজ্যে লোপাট করেন প্রকল্পের বেশি ভাগ অর্থ। যার কারণে বন্ধ রয়েছে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ উন্নয়নমূলক কাজ । সে সাথে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের উন্নয়ন কর্মমূখী পরিকল্পনা।
তদন্তের বিষয়ে অভিযোগকারী সাহাব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিয্ক্তু ঠিকাদার ও উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।সে সাথে আমার টয়লেট নির্মাণে নিয়মবহির্ভুত ভাবে আমার কাছ থেকে নেওয়া সিমেন্ট, রড়, টাকা ফেরত দিতে হবে। ঠিকাদার শাহ আলম আমার এলাকার লোক হওয়ায় আমাকে প্রতিনিয়ত গালি গালাজ ও হুমকি দিচ্ছেন আমি যাতে অভিযোগ প্রত্যাহার করি। অন্যদিকে অন্যান্য অভিযোগকারীরাও একই দাবি করে আসছে। আরো বলেন,জনস¦াস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্গান। এই দপ্তরকে কলংক মুক্ত করতে হলে ভ্রমপূর্ন অফিসারদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা না নিলে দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা থেমে যাবে এবং বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিষয়ে ‘শুন্য সহিষ্ণ’ু নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এই বিষয়ে তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী স্যার আমাকে আরো ২ দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারপরও নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব। তদন্ত নিরপেক্ষ হবে এতে কোন ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।
এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের সাথে টেলিফোনে কথা হলে তিনি জানান, যে অভিযোগ আমার বিরোদ্ধে করা হয়েছে তার তদন্ত চলমান । যখন এইসব টয়লেট করা হয়েছে তখন আমি এই উপজেলার দায়িত্বে ছিলাম না । এখানে কেউ একজন আমার বিরোদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য কিছু মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে বলে মনে করছি ।

Aroma Sensei I do not even understand how I ended up here, but I assumed this publish used to be great