ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহতের মামলায় ইউপি সদস্য আসামি, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ 

ইমাম খাইর#

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজার খরুলিয়া বাজারে নবী হোসেন নামের মাদক কারবারিকে গণপিটুনি, পরে মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনকে জড়ানো হয়েছে।

একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

তারা অবিলম্বে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরীফ উদ্দিনকে অব্যাহতির দাবি জানান।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়কের খরুলিয়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রণী পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, মাদক, ডাকাতি-অস্ত্র মামলা ৬টি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী নবী হোসনকে আটক করে জনতা।

এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ধারালো ছুরি পাওয়া যায়।

চিহ্নিত একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরে গণপিটুনির খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। জনরোষ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পুলিশ হেফাজতে হাসপালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এটি জনপ্রতিনিধির অপরাধ হতে পারে না।

কিন্তু এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনকে আসামি করা খুবই দুঃখজনক বিষয়।

এইরকম মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলে আগামীতে যে কোনো ধরণের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হবেন কিনা সন্দেহ।

এতে বক্তব্য রাখেন -ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক, খরুলিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা মো. আলম, ঝিলংজা ইউপি সদস্য আবদুর রশিদ, ছলিম উদ্দিন, জহির উদ্দিন কাজল ও আবুল হোসেন।

এলাকাবাসী মনে করেন, দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ এ ঘটনায় জড়িতও থাকতে পারে। কিন্তু জড়িত নয় এমন লোকজনকে আসামী করার পেছনে ইয়াবা গড়ফাদারদের ভূমিকা রয়েছে। কারণ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করা ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এভাবে মাদক প্রতিরোধে ভূমিকা পালনকারি ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে এলাকায় মাদকের ভয়াল বিস্তার ঘটবে। প্রতিরোধে কেউ এগিয়েও আসবে না।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শরিফ উদ্দিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার প্রতিপক্ষের লোকজন বাদীপক্ষের সাথে আতাঁত করে  মামলায় জড়িয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরীহ আসামীদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবী তুলেন।

প্রসঙ্গত, ১০ আগষ্ট দুপুরে কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় খুচরা ইয়াবা বিক্রিকালে ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ আটাশ হাজার টাকাসহ জনতার হাতে আটক হন নবী হোসেন নামের একব্যক্তি। এসময় জনগণকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফের আটক পরবর্তী গণপিটুনির শিকার হন ওই নবী হোসন। পরে

উপস্থিত লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফ উদ্দিন বিকেলে সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই সঞ্জয়ের হাতে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আহত নবী হোসেনকে তুলে দেয়।

১১ আগস্ট সকাল পৌনে ৮ টার দিকে হাজতী নবী হোসেন অসুস্থবোধ করলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯ টার দিকে হাসপাতালে মারা যান নবী হোসেন।

এঘটনায় মেম্বার শরীফ উদ্দিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

একই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শাহজাহান কবিরকে ক্লোজড করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.