চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ আবেগঘন পরিবেশে কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে শেষ বক্তব্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বিদায় নিয়েছেন নানা ঘটনায় আলোচিত-সমালোচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তবে তিনি বলেছেন, মেয়র পদ থেকে বিদায় নিতে হলেও তিনি চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা পাচ্ছেন। এই ভালোবাসায় প্রমাণ করেছে তিনি সফল।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করে চসিক। মেয়র এবং নির্বাচিত পরিষদের বিদায়কে ঘিরে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। বুধবার তার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্থগিত হওয়া চসিক নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন একই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচন না হওয়ায় অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
বিদায়বেলায় নাছির নানা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে কি করেছেন, তার জবাবও দিয়েছেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিককে একটি অভিন্ন ও একান্নবর্তী পরিবারে পরিণত করার দাবি করে বলেন, ’৩১ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান করেছি। চসিকে গতিশীলতা বেড়েছে। যারা নির্বাচিত হন তারা জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজেরও বিশ্বাসভাজন। তাই কোন গোষ্ঠী বা দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়, আসল কর্তব্য হলো নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। আমি মেয়র হিসেবে সেই চেষ্টা নির্বাচিত পরিষদকে নিয়ে যথাসাধ্য করেছি।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনবল সাড়ে ৯ হাজারের মতো। কোনো টেকসই অর্গানোগ্রাম ছিল না। গ্রেডেশন তালিকা ছিল না। পদায়ন ও পদোন্নতি ঝুলে থাকত। ২৭-২৮ বছর চাকরি করেও অনেককে চোখের পানি ফেলে শূন্য হাতে ফিরতে হতো। সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আগে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছিল ৯ কোটি টাকা। এখন সেটা ১৯ কোটি টাকা হয়েছে। আগে অবসরে যাওয়াদের দেওয়া হত এক লাখ টাকা করে। আমি দিয়েছি ২ লাখ টাকা করে।’
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে ও কর কর্মকর্তা সাহেদা বেগমের উপস্থাপনায় প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ইসমাইল বালী, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আজম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিরদের পক্ষে আঞ্জুমান আরা বেগম, চসিকের সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.