উখিয়াতে বনের জমি এনজিওদের দখলে

# পাত্তা দিচ্ছে না সরকারি নোটিশ
# বনের জমি অবৈধ দখল
# অফিস করেছে বিভিন্ন এনজিও
# চাইলে সরকারের রাজস্ব আদায় হতে পারে
# এখন মাসে কোটি টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার,
বনে সড়ক ও কাটা তারের বেড়া দিয়ে বনের জমি দখল করে দেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও আইএনজিও সংস্থা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন সংকুচিত হওয়ার কারণে বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্বক প্রভাব পড়েছে।
২০১৭ সালে বিশাল একটি অংশ মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গা দেশের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন জায়গায় স্থান নিলে বনের প্রায় কয়েক হাজার একর জমি তাদের দখলে চলে যায় । সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও আইএনজিও বন কেটে পরিস্কার করে তাদের অফিস বানিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
ঠিক তেমনি উখিয়ার ওয়ালাপালং এলাকার মুহুরীপাড়া এলাকায় বনের বিশাল এলাকা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে স্থাপনা করে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাইশা এন্টারপ্রাইজ। গত বেশ কয়েক বছর আগে বনের জমিতে বিশালাকার ওয়্যার হাউস ও অফিস করে এই কোম্পানির ম্যানেজার রাশিক খান নিজের দাপট দেখিয়ে অফিস পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে । তার এতোই দাপট স্থানীয়রাও সহজে তাদের অফিসে ডুকতে পারেনা । অফিসের সামনে সবসবময় বয়েকজন যুবক বসিয়ে রাখেন যেন বাইরের কেউ ভেতরে ডুকতে না পারে এমনটা নজরে এসেছে । প্রতিবেদক অফিসে গেলে ক্যামরাম্যানকে বাইরে চলে যেতে বরে এবং কোন প্রকার ভিড়িও না করার জন্য বারণ করে রাশিক নিজেই। গত বছরের সেপ্টম্বর মাসের ২৯ তারিখ ৩০/ উসবি-০৮ মূলে বনবিভাগ উখিয়া রেঞ্জের অধিনে উখিয়া বিট তাদের নোটিশ প্রদান করে তারা কিভাবে এই স্থাপনা করেছে তা কাগজপত্র নিয়ে বিট কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করার জন্য বলা হলেও আইন অমান্য করে আজও অফিস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে ।
এদিকে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে নির্মিত স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করার অপরাধে ছয় এনজিও’কে নোটিশ দিয়েছিল বনবিভাগ।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে, পরিবেশ ও জীব-বৈচি্েরর মারাত্মক ক্ষতি করে সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে নির্মিত স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দেশি-বিদেশি কয়েকটি এনজিও। যা বন আইন ১৯২৭ (যা ২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৬ (১ক) ধারা মতে, শাস্তিযোগ্য ও দÐনীয় অপরাধ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উখিয়া সদর বিটের ওয়ালাপালং, মৌজার আর.এস দাগ নং- ৮৬৪৬, ৮৯০১, ৮৯০১, ৮৬৪০, ১৭০, ৮৬৪০, মধুরছড়া, মুহুরীপাড়া (আমগাছ তলা), কুতুপালং (বটগাছ তলা), টি এন্ড টি ও (রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন সংলগ্ন) এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে সম্পূর্ণ বে-আইনীভাবে নির্মিত স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ডাবিøউএফপি, আইওএম ও ইউএনসিআর সহ দেশীয় এনজিও ব্রাক, জনসেবা কেন্দ্র ও মাইশা এন্টারপ্রাইজ।
সূত্র আরও জানায়, গত ২৯ (সেপ্টেম্বর) ২০২৪ তারিখে এসব অবৈধ দখলকৃত দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বরাবর উখিয়া সদর বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসানের স্বাক্ষরে নোটিশ প্রদান করা হয়। উক্ত নোটিশে বলা হয়েছে অভিযুক্ত এনজিও গুলোকে ৬ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য। অন্যথায় এসব এনজিওর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারী বনভূমিতে গড়ে উঠা উখিয়ার আলোচিত মধুরছড়া জঙ্গি আস্তানা উচ্ছেদের পর এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মাসিক ৭ লক্ষ ৫০ টাকা চুক্তিতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ডাবিøউএফপিকে বনভূমির জায়গাটি ভাড়া দেয় সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।
সম্প্রতি (গত মঙ্গলবার) প্রতিবেদক উখিয়া উপজেলার বনের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বনের জায়গা দখল করে এনজিও আইএনজিও গুলো তাদের অফিস ও ওয়্যার হাউসের নামের বনের জমি দখল করে আছে ।
এব্যাপারে এনজিও ও আইএনজিও প্রতিনিধিদের সাথে কথা হলে তারা বলছে দখল এনজিও করেনি তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে স্ট্যাম্পমূলে মাসিক ভাড়া নিয়েছে । উখিয়া উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বনভ‚মি দখল বেশ কয়েকটির নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে মাইশা এন্টারপ্রাইজ, জনসেবা কেন্দ্র,ব্রাক,ডাবিøউএফপি,ইউএনএইচসিআর,আইওএম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু এনজিও প্রতিষ্টান । এসব প্রতিষ্ঠানকে বনবিভাগ থেকে নোটিশ প্রদান করা হলে বনবিভাগের নোটিশের কোন উত্তর দেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে মাইশা এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রাশিক খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার জায়গাটা ভাড়ায় নিয়েছি হাজী শামশুল আলম থেকে। এর চাইতে বেশি তথ্য প্রয়োজন হলে আমার কোম্পানির সাথে কথা বলতে পারেন। তবে তারা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি প্রতিবেদককে।
অন্যদিকে বনের বিশাল জায়গা দখল করে ই্উনাইটেড ন্যাশন ওর্য়াল্ড ফুড় প্রোগ্রাম(ডাবিøউএফপি) তাদের ওয়্যার হাউস করেছে ওয়ালাপালং এলাকার মধুরছড়া এলাকা সামগ্রিকবিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে গেইটে দারোয়ান সাংবাদিক পরিচয় পেলে ভেতরে ডুকতে বাঁধা প্রদান করে এবং ভিতর থেকে লিটন ভ‚ইয়া নামের একজন কর্মকর্তা সিকিউরিটি গার্ড়ের কক্ষের সামনে এসে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, আপনার ভিজিটিং কার্ড হেড অফিসে পাঠানো হবে সেখাস থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
এর পাশেই আরো একটি বিশাল বনভ‚মি দখল করে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) নামের আরেকটি আইএনজিও বাউন্ডারী দিয়ে ঘিরে তাদের কার্জক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ এই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অপারেশনস এ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ নাহিদকে নোটিশ প্রদান করা হলেও তার কোন উত্তর দেননি এই প্রতিষ্টান। মোঃ নাহিদের সাথে প্রতিবেদক দেখা করতে চাইলে সিকিউরিটি গার্ড জানান, তিনি সাংবাদিকেদের সাথে দেখা করবেন না তিনি ব্যস্ত আছেন।
অন্যদিকে উখিয়ার ফলিয়াপাড়া এলাকায় বনের জমিতে ব্রাকের কার্যক্রম নজরে এসেছে। ভিতরে যেতেই সামনে বিশালাকার গরুর খামার নজরে আসে। সেখানে কাজ করছে আব্দুল্লাহ নামের একজন । একটু আগে গেলে বেশ কয়েকজন মহিলা কাজ করছে এমনটা দেখা গেছে। এর দায়িত্বে আছেন রিতা বড়–য়া নামের একজন। তিনি জানান এটি ব্রাকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে আমরা হোস্ট কমিউনিটির জন্য কাজ করছি।
ব্রাকের ডিপিএম কক্সবাজারের কর্মকর্তা শাহরিয়ার শাহা জানান, আমাদের প্রজেক্টের জায়গা নির্ধারণের জন্য একটি টিম রয়েছে মূলত তারাই এই জমি স্ট্যাম্প করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে । যদি বিস্তারিত জানতে চান যারা জায়গা নির্ধারণ করে চুক্তিনামা করেছে তাদের সাথে আপনার কথা বলতে হবে।
একটি সুত্র বলছে, এইসব এনজিও আইএনজিও এলাকার বিভিন্ন মানুষদের হাতে নিয়ে জমি ভাড়ায় নিয়েছে বলে তাদের সাথে স্ট্যাম্প করে মাসে কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ভরছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের প্রভাব ও আর্ন্তজাতিক প্রভাব খাটিয়ে বনের জায়গায় স্থাপনা করে বনের আইন অমান্য করছে বলে জানান সচেতন মহল।
উখিয়ার মুহুরীপাড়ার ইব্রাহিম নামের একজন অবৈধ দখলদার বনের জমি দখল করে এনজিও ফোরামকে ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইব্রাহিম জানান, বনের জায়গা এটি আমি মেনে নিচ্ছি। তবে এখন এই জমি এখন আমদের দখলে । আমরা আবাদ করে প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়েছি।
সমাজের সচেতন মহল বলছে, বনের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মাসে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি দখলবাজ সিন্ডিকেট। যদি সরকারিভাবে এইসব এনজিওকে লিজ দেওয়া হতো তবে বছরে শতকোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো যা এখন ধখলবাজদের হাতে যাচ্ছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, যেসব এনজিও ওআইএনজিও বনের জায়গায় স্থাপনা করেছে তাদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তারা কোন ধরনের জবাব দিতে পারেনি। আমার তাদের বিরোদ্ধে উচ্ছেদ মামলার মাধ্যমে আদালতের রায় নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিবাগের উখিয়া রেঞ্জে ১৪ হাজার হেক্টরের অধিক বন থাকলেও রোহিঙ্গা. বিভিন্ন এনজিও, আইএনজিও ও স্থানীয়রা হাজার হাজার একর বন দখল করে ভাড়া দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত ) যারীন তাসনিম তাসিন এর সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে বুধবার বিকাল ৩.২৭ মিনিটে দুবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

  1. Craig3356 বলেছেন
  2. Elaine3791 বলেছেন
  3. Cindy877 বলেছেন
  4. Asia1950 বলেছেন
  5. Nathaniel1934 বলেছেন
  6. Guillermo4445 বলেছেন

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.