চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন
নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওয়াসিম উদ্দিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামে করা হয়েছে।
চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম মহানগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওয়াসিম উদ্দিনের নামে করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ হন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ওয়াসিম উদ্দিন।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নিশ্চিত হয়ে এক্সপ্রেসওয়ের নাম পরিবর্তন করে।
আজ শুক্রবার সকালে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেতে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয় এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। নেওয়া হয়নি কোনো টোল। আজকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর শুরু হয়েছে টোল আদায়। এক্সপ্রেসেওয়েতে প্রথম টোল পরিশোধ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আগে তিনটি উড়ালসড়ক নির্মাণ করলেও এগুলো থেকে কোনো টোল আদায় করত না সংস্থাটি। তবে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টোল আদায় করছে।
নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মিত এক্সপ্রেসওয়েতে আপাতত পতেঙ্গা প্রান্তে টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায়ের জন্য চারটি বুথ রয়েছে। শুরুতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএর সরাসরি তত্ত্বাবধানে টোল আদায় করা হচ্ছে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করবে সিডিএ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্ধারণ করা টোলের হার পরিবর্তন করে গত বছরের ৩ নভেম্বর নতুন প্রস্তাব পাঠায় সিডিএ। ২৭ নভেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় টোলের হার চূড়ান্ত করে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ১০ ধরনের গাড়ি চলাচলের সুযোগ রেখে টোলের হার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল ও ট্রেইলর ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়নি।
চূড়ান্ত হওয়া টোলের হার অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে টোল দিতে হবে ৩০ টাকা। কার–জাতীয় গাড়িকে দিতে হবে ৮০ টাকা। জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য টোলের হার ১০০ টাকা। পিকআপ থেকে নেওয়া হবে ১৫০ টাকা। মিনিবাস ও ট্রাক ( চার চাকা) থেকে ২০০ টাকা করে, বাস থেকে ২৮০ টাকা নেওয়া হবে। ট্রাকের (৬ চাকা) জন্য ৩০০ টাকা এবং কাভার্ড ভ্যানের জন্য ৪৫০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৭ সালে অনুমোদিত হওয়া এ প্রকল্পের কাজ সাড়ে সাত বছরেও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি সিডিএ। এখন পর্যন্ত শুধু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প নির্মাণ করার কথা। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ছয়টি র্যাম্প বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৯টির মধ্যে একটির কাজ শেষ হয়েছে। অন্য আটটির কাজ চলমান। এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.