ইমাম খাইর:
কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে রেখা মণি (১৭) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
সে রাজাখালী ইউনিয়নের হাজী পাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে এবং রাজাখালী বহুমুখী বেশারাতুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।
শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে তার বসতঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আগের রাত শুক্রবার (২৩ জুলাই) ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ধর্ষণের অপমানে কীটনাশক পানে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত রেখা মণির পিতা আইয়ুব আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি ও আমার স্ত্রী বাঁশখালীর পুঁইছড়ি আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। রাতে ছেলে রাসেল ফোন দিয়ে বলেন, রেখা মণি বিষপান করেছে। দ্রুত বাড়িতে এসে স্থানীয়দের কাজ থেকে জানতে পারি মৃত বাদশার ছেলে আলমগীর, নুরুল হকের ছেলে রবি আলম ও বাঁশখালী ছনুয়া এলাকার মকসুদ আহমদের ছেলে আবুল কাশেম আমার মেয়েকে রাতে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে মৎস্য প্রজেক্টের টংঘর নিয়ে যায়। ওখানে তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এমন ঘটনায় তিনি অপমানবোধ করায় রাতে বিষপান করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু জানান, আমি যতটুকু জানতে পেরেছি মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে রেখা মনিকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার আবুল কাশেম নামে এক বখাটে। সর্বশেষ রাতে ওই বখাটেসহ তার আত্মীয় আলমগীর ও রবি আলম রাতে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তাকে বাড়িতে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় ছাত্রী অপমান সইতে না পেরে হয়তো আত্মহত্যা করেছে।
পেকুয়া থানার এসআই নাজমুল জানান, প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে সকালে ঘটনাস্থল থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি নিজেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেছেন।
মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা আইয়ুব আলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্টের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:০৪

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.