ডেস্ক নিউজ:
নেপালের পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। সোমবার (১০ মে) পার্লামেন্টে তার সরকারের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯৩টি, আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১২৪টি।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার নেপালের ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে ২৩২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে অলির প্রয়োজন ছিল ১৩৬ জন সদস্যের সমর্থন। তবে এ সংখ্যা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন তিনি। আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ায় এখন পদত্যাগ করতে হবে তাকে।
অলি তার পরাজয়কে ‘দূর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের উন্নয়ন ও জাতি গড়তে বিরামহীনভাবে কাজ করছিল।’ তার সরকার ‘সংকীর্ণ এবং পক্ষপাতী স্বার্থের লক্ষ্যবস্তু ছিল’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে নেপালে অলির দল কমিউনিস্ট পার্টিতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছিল। এর মধ্যে গত মাসে অলির জোট থেকে বেরিয়ে যায় ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি। এতে পার্লামেন্টে আস্থার সংকটে পড়ে ৩৭ মাস বয়েসি সরকার। পাশাপাশি গত মাস ধরে নেপালে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। মহামারি ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধীদল।
সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অগ্নি সাপকোতা ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করে। তিনি জানান, ২৩২টি ভোটের মধ্যে ৯৩টি ভোট পেয়েছেন অলি। আর তার বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১২৪টি। ফলে পার্লামেন্টে আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টের স্পিকার নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, অলি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। অলি নিজেও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন।
অলি তার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চাঙা করে দলের ভেতরেও বিতর্কিত হন। ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের অবনতি তার দলের অনেকেই সমর্থন করেননি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.