ডেস্ক নিউজ:
সারা দেশে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭.৫২ একর সংরক্ষিত বনভূমির এক লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩.০৬ একর জমি ৮৮ হাজার ২১৫ জন জবরদখলকারী দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছে। এ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত বনভূমির জবরদখল উদ্ধারে গৃহীত ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মাহমুদ হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজী, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) মো. মনিরুজ্জামান, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১৪০ জন জবরদখলকারী ৮২০.৩৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কলকারখানা স্থাপন করেছেন। পাঁচ হাজার ৯৮২ জন জবরদখলকারী ১৪ হাজার ১৪৯.১৭ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবর দখল করে হাটবাজার, দোকান, রিসোর্ট ও কটেজ, কৃষিফার্ম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। ৮২ হাজার ৯৩ জন ব্যক্তি এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৩.৫৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখল করে ঘরবাড়ি, কৃষি জমি তৈরি করেছে। সারা দেশে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭.৫২ একর সংরক্ষিত বনভূমির এক লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩.০৬ একর মোট ৮৮ হাজার ২১৫ জন জবরদখলকারী দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বনের নামে রেকর্ডকৃত সব সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।
মন্ত্রী জানান, প্রথমে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার বনবিভাগের অবৈধ দখলকৃত সংরক্ষিত বন উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। পরবর্তীতে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলের অবৈধ বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বনের নামে রেকর্ডকৃত সব সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে আছে এমন ১২টি জেলার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান মনিটরিং ও সমন্বয় করার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এ সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.