৩ ডিপোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য চায় বিপিসি

ডেস্ক নিউজ:
জ্বালানি তেলের তিন ডিপোর নিরাপত্তায় এবার পুলিশ আনসার চায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি জ্বালানি বিভাগে এক উপস্থাপনায় এ কথা বলেছে।

বিপিসি বলছে চট্টগ্রাম, দৌলতপুর এবং বাঘাবাড়ি জ্বালানি তেলের ডিপোতে পুলিশ এবং আনসার বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

বিপিসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়টি তারা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

ডিসেম্বর থেকেই দেশে সেচ মৌসুমের শুরু হয়। বোরো আবাদের বীজতলা এবং জমি তৈরির জন্য সেচ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসি, রেলওয়ে এবং বিআইডব্লিটিএ যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়। মূলত রেলওয়ে এবং নৌপথেই বেশিরভাগ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। কিন্তু মাঝে মাঝেই বিশৃঙ্খলার জন্য জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়।

বিপিসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেল বিপণন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা মূলত তিনটি ডিপোর নিরাপত্তা চাইছি। মাদার ভ্যাসেলে তেল আসার পর চট্টগ্রাম থেকে ওই তেল খুলনার দৌলতপুর এবং সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে নেওয়া হয়। এজন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে বাঘাবাড়িরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দেশের ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭৩ দশমিক ১১ ভাগ ডিজেল। ডিজেলের ১৮ ভাগ ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রমতে, ২০২০-২০২১ সালের কৃষিসেচ মৌসুমে ডিজেল চালিত যন্ত্রের জন্য ডিজেল ও লুব অয়েলের (নভেম্বর ২০২০ থেকে মে ২০২১ পর্যন্ত) প্রাক্কলিত চাহিদা ১৯,৩৯,৩৭০ মেট্রিক টন ডিজেল ও ৫১,০৩৪ মেট্রিক টন লুব অয়েল। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। বিপিসি বা বিপণন কোম্পানি পর্যায়ে প্রায় ৮৪ ভাগ জ্বালানি তেল নৌপথে, ৯ ভাগ রেলপথে এবং ৭ ভাগ সড়কপথে পরিবহন হয়ে থাকে।

সম্প্রতি এক বৈঠকে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারিতে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে আমাদের কৃষকরা। কৃষিতে সারাবছর জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও সেচ মৌসুমে (ডিসেম্বর-মে) এই চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে ডিজেলের চাহিদা ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। যে কোনও মূল্যে কৃষিক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে সেচ মৌসুমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। -বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.