মোহাম্মদ ইলিয়াছ, যুগান্তর, লামা (বান্দরবান):
রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন কী আর করার থাকে? বলছি বান্দরবানের লামা উপজেলা প্রশাসনের কথা। লামা উপজেলার নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করার জন্য এলজিইডির এক কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বন ও পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে স্বয়ং উপজেলা প্রশাসন নিজেই। যেখানে উপজেলা প্রশাসন পাহাড় না কাটার জন্য জনমত গঠন করে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেখানে তারা নিজেরাই পাহাড় কেটে বাসভবন নির্মাণ করছে। এতে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এই ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোফিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
২০০০ সালে সংশোধিত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করেছে। আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটার জরিমানা প্রথম অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। পরবর্তী অপরাধে জরিমানা দশ বছরের কারাদণ্ড, দশ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
জানা যায়, এলজিইডির এক কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ কাজ শুরু করবে ঠিকাদারগণ। কিন্তু তার আগে পাহাড় কেটে জায়গাটা সমান করতে হচ্ছে। অথচ মূল উপজেলা প্রশাসনের পেছনে যথেষ্ট খালি জায়গা পড়ে আছে এমনকি পুরাতন ইউএনও বাসভবনও বর্তমানে সেখানে রয়েছে। যেখানে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করার পর আরও অনেক জায়গা খালি পড়ে থাকবে সেখানে পাহাড় কেটে বাসভবন নির্মাণ প্রশ্নবিদ্ধও বটে। এ ব্যাপারে এলজিইডির লামার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু প্রকল্পটা বাস্তবায়ন করব। পাহাড় ও মাটি আমরা কাটছি না। এগুলো উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপার।’ এ ব্যাপারে স্থানীয় ঠিকাদার বিজয় আইস বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে ওই প্রকল্পের কাজটা নিয়েছি। তবে পাহাড় ও মাটি আমরা কাটছি না। উপজেলা প্রশাসন নিজেই আমাদের পাহাড় কেটে দিচ্ছে। পাহাড় কাটা হয়ে গেলে আমরা কাজ শুরু করব।’
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজা রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারাভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কাজটা আমার জন্য করছি না। এটি সরকারি কাজ।’ বন ও পরিবেশের ছাড়পত্রের নেওয়া হয়েছে কিনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.