ডেস্ক নিউজ:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করায় রাজশাহীতে আটজনকে আটক করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের রাজশাহী জেলার সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্নাও ছিলেন। পুলিশ তাকেও থানায় নিয়েছিল।
বুধবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
মুন্না ছাড়াও আটকদের মধ্যে বাসদের রাজশাহী জেলা সমন্বয়কারী আলফাজ হোসেন, মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান নবীন, মহানগরের সদস্য সাগর, ছাত্রফ্রন্টের রিদম শাহরিয়ার। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি। পুলিশ আটজনকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাম জোটের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে মিছিল করার কথা ছিল। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নগরীর আলুপট্টিতে সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে জিরোপয়েন্টে আগে থেকেই পুলিশ অবস্থান করছিল। তারা সেখানে কর্মসূচি পালন করতে চাইতে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের আটকের পর গাড়িতে করে থানায় নেয়া হয়।
পুলিশ বলছে, বিকালে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের প্রেসক্লাব প্রান্তে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল। এ সময় জিরোপয়েন্টে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিবিরোধী স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি করতে চান বাম গণতান্ত্রিক জোটের কিছু নেতাকর্মী। কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় তাদের বাধা দেয়া হয়। বাধা পেয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে সেখানে স্লোগান ধরে। এতে পুলিশ তাদের ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইলে তর্কে তারা জড়ান। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। বাধ্য হয়ে কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়। আবার কয়েকজন ইচ্ছে করেই পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের সবাইকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গণসংহতি আন্দোলনের রাজশাহীর সমন্বয়ক মুরাদ মুর্শেদ বলেন, নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রদায়িক একজন মানুষ। তিনি ভারতজুড়ে তার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো অনুষ্ঠানে তাকে আনার বিরোধিতা করার রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার আমাদের রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সেই অধিকার দেয়নি।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে হলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। তারা অনুমতিও নেননি, তাদের কাছে কোনো ব্যানারও ছিল না। তারাই কথা কাটাকাটি শুরু করে গ্রেপ্তার করতে বলে। কয়েকজন জোর করেই পুলিশের গাড়িতেও উঠে পড়ে। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদের প্রত্যেকের কাছে মুচলেকা নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.