অনলাইন ডেস্ক:
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বেলারুশ। নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী মিনস্ক। নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এরই মধ্যে দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মারিয়া কোলেসনিকোভাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিবিসি বুধবার রাতে এ খবর জানিয়েছে।
বেলারুশিয়ান কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মারিয়া কোলেসনিকোভা, প্রেস সেক্রেটারি অ্যান্তন রোদনেনকভ এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি আইভান ক্রাভটসভ দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ইতোমধ্যে এদের সবাইকে ধরা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
লুকাসেঙ্কোবিরোধী বিক্ষোভ দেখানোর সময়ই গত সপ্তাহে বিরোধীনেত্রী কোলেসনিকোভাকে অপহরণ করেছিল মুখোশধারীরা। তারা রাজধানী মিনস্ক থেকে তাকে সোজা নিয়ে যায় ইউক্রেনের সীমান্তে। জোর করে তাকে বেলারুশ থেকে ইউক্রেনে পাঠানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সেখানে নিজের পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে দেন এই সাহসিনী নেত্রী।
ফলে তাকে আর জোর করে ইউক্রেন পাঠানো যায়নি। তার সঙ্গে থাকা দুই অনুগামীকে অবশ্য তার আগে ইউক্রেনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কোলেসনিকোভাকে আটক করা হয়। এরপর বেলারুশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত আরও এক বিরোধী নেতাকে তুলে নিয়ে যায় মুখোশধারীরা।
বিদ্রোহীদের অভিযোগ গত ৯ আগস্ট নির্বাচনে কারচুপি করে ফের ক্ষমতা দখল করেছেন আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। তিনি এভাবে গত ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। সেই সমস্যা জর্জরিত প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর ক্ষমতায় থাকার সমর্থনে গত পরশু সফর করেছেন রাশিয়া। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর সফরে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো পুরস্কার হিসেবে পেলেন দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ। এই দুই নেতা কৃষ্ণ সাগরের সোচি অবকাশ কেন্দ্রে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.