দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্যের দুই সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

নির্দেশনার এক মাস হলেও তদন্তের অগ্রগতি নেই, দুই সচিব আরও বেপরোয়া।

ওয়ান  নিউজঃ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ একমাস অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা বা সাময়িক বহিষ্কার করা হয়নি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা শাখার দুই যুগ্ম সচিব মল্লিকা খাতুন এবং মোহাম্মদ আবদুল কাদের বিরুদ্ধে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও তদন্তে ধীরগতিতে কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এ কর্মকাণ্ডে ধীরগতির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই দুই সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিস্তার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিবের কাছে পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এক ঠিকাদার ব্যবসায়ী। অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে এ নির্দেশনা দেওয়ার পর প্রায় এক মাস হলেও অভিযোগ তদন্তে কমিটি করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মল্লিকা খাতুন ও আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই মন্ত্রণালয়ে থেকে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে সিন্ডিকেট তৈরি করে টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের চাপ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ওলিউজ্জামানের সই করা চিঠিতে বলা হয়, মল্লিকা খাতুন ও আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই মন্ত্রণালয়ে থেকে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে সিন্ডিকেট তৈরি করে টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের চাপ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এই দুই যুগ্ম সচিবকে স্বপদে রেখে সঠিক তদন্ত করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা। এর পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেওয়ার পর প্রায় এক মাস হলেও অভিযোগ তদন্তে কমিটি করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে উপসচিব মো. ওলিউজ্জামান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা দুজনই স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগে কর্মরত। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি আমরা পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শাখায় চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত কমিটি গঠন করবে।

এতদিনেও কেন তদন্ত কমিটি করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের কাজ প্রক্রিয়াধীন। দুই-এক দিনের মধ্যে কমিটি হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.