নীতিশ বড়ুয়া, রামু
বিশ্বের দীর্ঘ মানব হিসাবে পরিচিতি পাওয়া কক্সবাজারের রামুর জিন্নাত আলীকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শেষ যাত্রায় দীর্ঘমানব জিন্নাত আলী কবরে গেলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের কাধে চড়ে।
মঙ্গলবার ২৮ (এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় স্থানীয় গর্জনিয়া বড়বিল এলাকায় মরহুম জিন্নাত আলীর জানাযার নামাজ শেষে স্থনীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) সরওয়ার উদ্দিন, গর্জনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাইল নোমান, গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ চৌধুরী, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইয়াহিয়া চৌধুরী, মরহুমের নিকট আত্মীয়সহ ৩০ জন মুসল্লি অংশ নেন।

জানাযা শেষে সাংবাদিকদের কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জিন্নাত আলীর খবর পাওয়ার পর তার চিকিৎসাসহ পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।
২০১৮ সালে দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাই এবং তাকে সংসদ ভবনে নিয়ে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দিই। এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিন্নাত আলীর শারীরিক খবরা-খবর নিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে জিন্নাতের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেন এবং জিন্নাত আলীকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করান। তিনি আরও জানান, ওই সময় হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা সেবা গ্রহনের পর চিকিৎসকেরা তার মাথার টিউমার অপারেশনের উদ্যোগ নিলে বেঁকে বসেন জিন্নাত ও তার পরিববারের সদস্যরা।
তাদের ধারনা ছিল অপারেশন করলেই জিন্নাত মারা যাবে। তাই অপারেশন ছাড়াই এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতে হয়। পরবর্তীতে জিন্নাত আলী বিভিন্ন সময় অসুস্থ হলে আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করি। বিশ্বের দীর্ঘ মানব হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জিন্নাত আলীর মৃত্যুতে এমপি কমল গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুম জিন্নাত আলীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর। রামুর গর্জনিয়ার ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের বর্গা চাষী আমীর হামজার (৬০) ছেলে জিন্নাত আলী। তার এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত আলী তৃতীয়।

জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলীর বাসস্থান ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থাও করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয় একখন্ড জমি, জমিতে তৈরি করে দেয়া হয় একটি পাকা ঘর। এছাড়া গর্জনিয়া বাজারে তার নামে ০.০০৩৮ একর জমি বন্দোবস্ত দিয়ে সেই জমিতে নির্মাণ করে দেয়া হয় একটি দোকান ঘর। গত বছর (২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল দোকানে ৫০ হাজার টাকার মালামাল দিয়ে দোকানঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন। এ সময় দোকান ঘরের পাশাপাশি জমির কাগজপত্র জিন্নাত আলীকে হস্তান্তর করা হয়।
তার বড় ভাই জানান, অন্যান্যদের মতো জিন্নাত আলীর গড়ন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ওর বয়স যখন ১২ বছর, সে সময় থেকেই দ্রæত উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রতিবছর ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট উচ্চতা বেড়ে জিন্নাত আলী ৮ ফুট ২ ইঞ্চির এক দীর্ঘ মানব হিসেবে পরিচিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি কমল ও কক্সবাজার জেলা ও রামু উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.