ঝিনাইদহে এবার ট্রাক ড্রাইভারকে রড ও হাতুড়ি দিয়া পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা \ হাসপাতালে ভর্তি
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় আকিমুল মালিতা (৩৫) নামের এক ট্রাক ড্রাইভারকে রড ও হাতুড়ি দিয়া এলোপাতাড়ী ভাবে পিটাইয়া পায়ে, মাজায়, পিঠে মারাত্মক জখম করে। ভোরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আনিয়া ভর্তি করে। আহত ট্রাক ড্রাইভার আকিমুল হরিণাকুন্ডু উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মালিতার পুত্র। পাপ্পু (২৫)সহ অজ্ঞাতনামা ০৩ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় এজাহার দিয়েছে। পাপ্পু জেলা শহরের কাঞ্চনপুর ট্রাক টার্মিনালপাড়ার পিতা হাবিবুর রহমান @ হবুর ছেলে।
আহত ট্রাক ড্রাইভার আকিমুল মালিতা জানায়,আমি ঝিনাইদহ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর একজন ড্রাইভার সদস্য। আমি আসামীর মালিকানাধীন ট্রাক নং- ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৪৬৪৫ গাড়ীটি চালাইয়া জীবিকা নির্বাহ করি। ঝিনাইদহ সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের বিগত নির্বাচনে আমি সভাপতি প্রার্থী মোঃ দাউদ হোসেনের পক্ষ সমর্থন করি। আসামীর পিতা সভাপতি পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করিয়া পাস করিতে পারেন না। আমি আসামীর গাড়ী চালাইলেও সেই হইতেই আসামী মনে মনে আমার উপর ক্ষিপ্ত থাকে।
গত ইং ১৪/০৩/১৭ তাং মঙ্গলবার রাত্রে উক্ত গাড়ী ঝিনাইদহ ট্রাক টার্মিনালে রাখিয়া গাড়ীর মধ্যেই ঘুমাইয়া ছিলাম। ইং ১৫/০৩/১৭ তাং বুধবার রাত্র অনমুান ২ টার সময় আসামী ট্রাকের নিকট আসিয়া আমার নাম ধরিয়া ডাক দেয়। আসামী যেহেতু গাড়ীটির মালিক সেহেতু আমি আসামীর ডাকে গাড়ীর দরজা খুলিয়া বাহিরে আসার সাথে সাথে আসামী পাপ্পু এবং অজ্ঞাতনামা ০৩ জন আমাকে জোর পূর্বক ধরিয়া পার্শ্ববর্তী আসামীর বাড়ীর গেটে লইয়া আসামীগণ পরস্পর সহায়তায় রড ও হাতুড়ি দিয়া আমাকে এলোপাতাড়ী ভাবে পিটাইয়া পায়ে, মাজায়, পিঠে মারাত্মক জখম করে।
আসামী পাপ্পু আমার প্যান্টের পকেটে থাকা আমার মজুরীর নগদ ২৮.৫০০/- টাকা জোর করিয়া কাড়িয়া নেয়। আমার ডাকচিৎকারে সাক্ষীরা ও স্থানীয় লোকজন আসিয়া আমাকে আসামীদের কবল হইতে উদ্ধার পূর্বক গাড়ীর নিকট আনে। ঘটনার পর অধিক রাত হওয়ায় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের মোবাইলে পাওয়া যায় না। ভোর হইলে সাক্ষী ফারুক লোকজনের সহায়তায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আনিয়া ভর্তি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের অবগত করা হইয়াছে। আমি চিকিৎসাধীন থাকিয়া এবং ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সহিত আলোচনা করিয়া সদর থানায় এজাহার দিই। সংবাদ পাইয়া আমার বাড়ী হইতে আমার স্ত্রী ও আরো অনেকে হাসপাতালে আসিয়া আমার নিকট ঘটনার কথা শোনে ও চিকিৎসা করাচ্ছেন।বৃহস্পতিবার সদর থানায় মামলা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.